নিজ্জর হত্যায় গোল্ডি ব্রারের যোগের দাবি ফাঁস অডিওতে, বাড়ল চাঞ্চল্য
নয়াদিল্লি: কানাডায় খলিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড (Nijjar Murder Case) নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একটি ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপে গ্যাংস্টার সতিন্দরজিৎ সিং…
নয়াদিল্লি: কানাডায় খলিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড (Nijjar Murder Case) নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একটি ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপে গ্যাংস্টার সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রার নিজ্জরকে হত্যার সঙ্গে নিজের দলের যোগ থাকার দাবি করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে অডিওটির সত্যতা এবং কথোপকথনে ব্রারের কণ্ঠ রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
অডিওতে ব্রারকে খলিস্তানি জঙ্গি পরমজিৎ সিং পামার সঙ্গে কথোপকথন করতে শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে নিজ্জরকে কেন লক্ষ্য করা হয়েছিল, সে সম্পর্কেও তিনি একটি কারণ তুলে ধরেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে আমেরিকার আদালতে প্রকাশিত একটি অভিযোগপত্রে লরেন্স বিষ্ণোই এবং গোল্ডি ব্রারের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে নিজ্জর হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। মার্কিন অভিযোগপত্রে ভারত সরকারের কোনও ভূমিকার অভিযোগ করা হয়নি।
নিজ্জরকে কেন হত্যা করা হয়েছিল বলে দাবি?
ফাঁস হওয়া অডিওতে ব্রার দাবি করেছেন, মাদক ব্যবসায় তরুণদের ব্যবহার করা এবং তাদের দিয়ে মাদক বিক্রি করানোর সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তিকে নিজ্জর সমর্থন করতেন। তাঁর দাবি, এই কারণেই নিজ্জরকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অডিওতে ব্রার আরও দাবি করেছেন, তাঁর দল মনে করেছিল নিজ্জর ওই ব্যক্তিদের শক্তিশালী করছিলেন এবং ভবিষ্যতে তাদের ব্যবহার করতে পারতেন। তবে এই বক্তব্যকে আপাতত গোল্ডি ব্রারের নিজের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অডিওটির উৎস, সম্পাদনা হয়েছে কি না এবং কথোপকথনটি আসল কি না, সে বিষয়ে কোনও স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও সামনে আসেনি।
২০২৩ সালে গুরদ্বারের বাইরে খুন নিজ্জর
হরদীপ সিং নিজ্জরকে ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারেতে একটি গুরদ্বারের বাইরে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারতীয় সরকারি এজেন্টদের সম্ভাব্য যোগ থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন। নয়াদিল্লি সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছিল এবং কানাডার মাটিতে খলিস্তানপন্থী সংগঠন ও ব্যক্তিদের কার্যকলাপ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারত ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দীর্ঘ সময়ের জন্য তলানিতে পৌঁছেছিল।
আমেরিকার অভিযোগে উঠে আসে বিষ্ণোই ও ব্রারের নাম
২০২৬ সালের জুলাইয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত গোল্ডি ব্রারের বিরুদ্ধে নিজ্জর হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে। আমেরিকার আদালতে প্রকাশিত অভিযোগপত্র অনুযায়ী, কারাগারে থাকা বিষ্ণোইকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার এবং ব্রারকে উত্তর আমেরিকায় গ্যাংয়ের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ করা হয়েছে। এই তদন্ত বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধ দমনের অভিযানের অংশ। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং মাদক পাচার-সহ একাধিক অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠিত অপরাধ চক্রের কথা উঠে এসেছে।
কানাডার তদন্তে ভারতীয় যোগের প্রমাণ মেলেনি
নিজ্জর হত্যাকাণ্ড নিয়ে সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ বা আরসিএমপির ডেপুটি কমিশনার লিসা মোরল্যান্ড জানান, সংগঠিত অপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত এবং প্রকাশিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের এই হত্যাকাণ্ডে যুক্ত থাকার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, তদন্তে ভারত সরকার সহযোগিতা করেছে। এই বক্তব্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আগের অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ট্রুডোর অভিযোগই ভারত-কানাডা সম্পর্কের বড় সংকটের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিল।
গোল্ডি ব্রারকে ধরতে ৫০ হাজার ডলারের পুরস্কার
গোল্ডি ব্রার এখনও পলাতক। তাঁকে গ্রেফতারের জন্য তথ্য দিতে ৫০,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে আমেরিকার ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই। এফবিআইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রার লরেন্স বিষ্ণোই সংগঠিত অপরাধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং এই চক্র আমেরিকা ও কানাডার বিভিন্ন এলাকায় হিংসাত্মক অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অডিও ঘিরে নতুন প্রশ্ন
নিজ্জর হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই মার্কিন অভিযোগপত্রে বিষ্ণোই ও ব্রারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যে ফাঁস হওয়া এই অডিও সামনে আসায় মামলাটি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অডিওটি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তাই সেটিকে চূড়ান্ত প্রমাণ বা ব্রারের আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
বর্তমানে প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, আমেরিকা বিষ্ণোই ও গোল্ডি ব্রারের বিরুদ্ধে নিজ্জর হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ এনেছে, আর কানাডার পুলিশ ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পায়নি বলে জানিয়েছে। ফলে নতুন অডিওটি সত্যি হলে নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু অডিওটির সত্যতা এবং এর কথোপকথনের প্রেক্ষাপট নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গোল্ডি ব্রারের কথাকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত।
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের