চেরাই কাঠের চোরাবালিতে আবার কি এক বনমন্ত্রীর পা?
বন দপ্তর সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজ্যে বড় করাত কলগুলির বেশিরভাগই লাইসেন্সপ্রাপ্ত হলেও মাঝারি বা ছোট করাত কল বিনা লাইসেন্সেই ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে। সরকারি নজরদারি এড়িয়ে জঙ্গল এবং গ্রামাঞ্চল থেকে দেদার কাঠ সংগ্রহ করে তা বেআইনি ভাবে ব্যবহার করছে এই কলগুলি। বড় শ’মিল বা করাত কলের ক্ষেত্রে যেমন জঙ্গল থেকে কাঠ আনার বা চেরাইয়ের পরে গোলা কাঠ পাঠানোর ট্রানজ়িট পাস থাকে, নির্দিষ্ট রেজিস্টারে লগবুক থাকে। কারণ লাইসেন্স পুনর্নবীকরণের সময়ে সে সব নথি যাচাই করা হয়। ছোট করাত কল এ সব নিয়ম মানেই না। কারণ তাদের লাইসেন্সই নেই।
বন দপ্তরের এক কর্তার কথায়, ‘নদিয়া–মুর্শিদাবাদে বনাঞ্চল খুব কম। অথচ এখানে জেনারেল ক্যাটিগরি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রচুর করাত কল যেমন রয়েছে, তেমনই বিপুল পরিমাণে ছোট করাত কল তৈরি হয়েছে, যারা গ্রাম্য এলাকার পুরোনো গাছ অবৈধ ভাবে কেটে ব্যবসা চালাচ্ছে। তাতে সরকারের রাজস্বও বাড়ছে না, গ্রামাঞ্চলে সবুজের স্বাভাবিক আচ্ছাদনও কমছে। সরকারি খাতায় প্রমাণই থাকছে না যে, গ্রাম বা আশপাশের জঙ্গল কী ভাবে সাফ হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় জারুল–গামার গাছের পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম–পুরুলিয়া–বাঁকুড়া হোক বা সীমানা পেরিয়ে ঝাড়খণ্ড — কোথাকার জঙ্গল থেকে শাল–সেগুন এনে কাটা হচ্ছে এ সব কলে, তা চোখের আড়ালেই থাকছে। কারণ এই কলগুলো খাতায়কলমে অস্তিত্বহীন।’