অভিভাবকহীন পুরসভা, গল্প করেই বাড়ি ফিরছেন কর্মীরা!
সুজিত রায়, আলিপুরদুয়ার
কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের রায়ের পরে আলিপুরদুয়ার পুরসভায় প্রশাসক আর নেই। এগজ়িকিউটিভঅফিসার বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। তাঁর জায়গায় একজন এগজ়িকিউটিভ অফিসার এলেও দু’দিন পরে তিনিও বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। সোমবার একজন দায়িত্ব নিলেও তিনি এখনও পর্যন্ত পুরসভা অফিসে আসেননি। সব মিলিয়ে আলিপুরদুয়ার পুরসভা বর্তমানে কার্যত অভিভাবকহীন। পুরকর্মীদের মধ্যে ফিসফাস চলছে, ‘খুব কঠিন অবস্থা। কে আসছেন, কে যাচ্ছেন, কিছুই বুঝতে পারছি না। কোনও কাজকর্ম হচ্ছে না। এ ভাবে একটা পুরসভা চলে?’
পুরসভার কতটা করুণ অবস্থা, তা দপ্তরে পা রাখলেই বোঝা যায়। সাধারণ ইনকাম সার্টিফিকেট নিতে এসেও ঘুরে যেতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। সম্প্রতি পুর এলাকার বাসিন্দা এক দুঃস্থ প্রৌঢ় ত্রিপলের জন্য পুরসভা অফিসে আসেন। কিন্তু পুরসভায় কাউন্সিলার না-থাকায় হতাশ হয়ে ফিরে যান। উন্নয়নমূলক সমস্ত কাজ বন্ধ। এ দিকে সামান্য বৃষ্টিতেই শহর ভাসছে। দেখার কেউ নেই।
পুরসভায় কর্মীরা আসছেন। সইসাবুদ করছেন। নিজেদের মধ্যে গল্পগুজব করে বিকেল পাঁচটা বাজলেই বাড়ি চলে যাচ্ছেন। লাইসেন্স, অ্যাকাউন্টস, বার্থ সার্টিফিকেট, হোল্ডিং সেকশন-সহ যাবতীয় রুমে একই দৃশ্য। কর্মী আছেন, কিন্তু কাজ নেই। থাকবে কেমন করে? পুর বোর্ডটাই তো নেই!
এ দিকে কয়েকদিন আগে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের কাউন্সিলাররা নতুন বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপরে সম্প্রতি তাঁরা ফের রিট পিটিশন দাখিল করেছেন হাইকোর্টে। সেই মামলা এখনও চলছে। পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার, কংগ্রেসের শান্তনু দেবনাথ বলেন, ‘পুরসভার অবস্থা ভালো নয়। কোনও কাজই হচ্ছে না। প্রশাসক নেই। এগজ়িকিউটিভ অফিসার নেই।’ তাঁর সংযোজন, ‘অনৈতিক ভাবে বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে। এতকিছুর পরেও আমাদের বোর্ড গঠনের দাবিকে প্রাধান্য দেয়নি পুরসভা। ফলে আমরা এ নিয়ে ফের আইনি লড়াইয়ে নেমেছি। এখন আদালতই শেষ কথা বলবে।’
পুরসভার তিন জন কাউন্সিলার পূর্বতন এগজ়িকিউটিভ অফিসার ইউজেন মোক্তানের কাছে বোর্ড গঠনের জন্য বৈঠক ডাকার আবেদন জানিয়েছিলেন। পুর আইন অনুযায়ী বোর্ড গঠনের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এ নিয়ে আলিপুরদুয়ারের মহকুমাশাসক রিচার্ড লেপচা বলেন, ‘কী পদক্ষেপ করা হবে তা জানতে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরকে জেলাশাসকের চিঠি দেওয়ার কথা। তিনি তা দিয়েছেন কি না জানি না। আমি আগে প্রশাসক ছিলাম। এখন নেই। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকে কী নির্দেশ আসে, সেটা দেখতে হবে।’ প্রতিক্রিয়া জানতে জেলাশাসক ময়ূরী ভাসুকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।