‘সব ফেলে এসেছি’… বিদায় প্রিয় বন্ধু দেবাশিস
জাহিদ আহমেদ লিটন
‘সব ফেলে এসেছি’ — এ কথার ভিতরে কি লুকিয়ে ছিল বিদায়ের ইঙ্গিত? গত ৩ অগস্ট কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নিউ মার্কেট চত্বরে পৌঁছনোর পথে ফেসবুকে এটাই লিখেছিল সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত। তখন মনে হয়েছিল, হয়তো কোনও অভিমান, ক্লান্তি বা অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়েছে। কিন্তু আজ ওই কথাটাই বারবার মনে পড়ছে। সে কি বুঝতে পেরেছিল, সত্যিই সব ফেলে চলে যেতে হবে? কিছু কথা মানুষ চলে যাওয়ার পরে অন্য অর্থ নিয়ে ফিরে আসে। তখন বুকের ভিতরটা হাহাকার করে ওঠে।
দেবাশিসের মৃত্যু যশোর অঞ্চলের সাংবাদিকদের ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে। প্রিয় এই বন্ধুকে কখনও ভোলা যাবে না। যশোর থেকে কুষ্টিয়ায় গেলে, বিশেষত লালন সাঁই উৎসবে তার সঙ্গে দেখা না করে ফেরার উপায় ছিল না। শত কাজের মধ্যেও সে এসে দেখা করত এবং চা না খাইয়ে ছাড়ত না। যা এখন ইতিহাস হয়ে গেল। কলকাতার বুকে কত আবাসিক হোটেল, কোথাও কবুতরের খোপের মতো ছোট ছোট ঘর! শতবর্ষের পুরোনো আবাসিক ভবন রাতারাতি হোটেলে রূপ নেয়, অথচ সেখানে মানুষের থাকার জন্য ন্যূনতম নিরাপত্তা, আলো-বাতাসের নিশ্চয়তা কি আদৌ আছে, মনে ঘুরপাক খাচ্ছে এই প্রশ্ন। এ জাতীয় হোটেলের অনুমোদন কী ভাবে দেওয়া হয়, সেটাই বিস্ময়ের।
একটি অগ্নিকাণ্ড কতগুলো প্রাণ কেড়ে নিল! কলকাতা আমাদের চেনা, আপন শহর। বাংলাদেশের যশোর শহর থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটারের দূরে ভারতের বনগাঁ। আর কলকাতা শ’দুয়েক কিলোমিটার। নিউ মার্কেট এলাকা তো আমাদের অতি চেনা। সেখানেই প্রাণ হারালেন আমাদের বন্ধু। এত পরিচিত জায়গায় এমন পরিণতি অপেক্ষা করলে আমরা কোথায় নিরাপদ? বাংলাদেশে নিরাপত্তার কথা বাদই দিলাম, কারণ দেশে এই শব্দগুই প্রশ্নবিদ্ধ।
(লেখক ‘দৈনিক নতুন সকালের বার্তা’র সহকারী সম্পাদক এবং কোষাধ্যক্ষ, যশোর প্রেস ক্লাব)