বাবাকে নৃশংস খুনের অভিযোগ, যাবজ্জীবন দম্পতির - 24 Ghanta Bangla News
Home

বাবাকে নৃশংস খুনের অভিযোগ, যাবজ্জীবন দম্পতির

Spread the love

এই সময়, চন্দননগর: দস্তানা পরে বুকের উপরে বসে গলা টিপে বাবাকে খুন করেছিল ছেলে। কোনও রকমে পালিয়ে বেঁচেছিলেন মা। সেই নৃশংস খুনের ঘটনায় ছেলে ও বৌমাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সাজা ও নগদ ৩০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করলেন চন্দননগর আদালতেরঅতিরিক্ত দায়রা বিচারক মানবেন্দ্র মোহন সরকার। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে ছেলে অমিত কোলে ও তার স্ত্রী পূজা কোলে। এ দিন রায় শুনে আদালতের এজলাসে ভেঙে পড়ে তারা। পূজা কোলে দীর্ঘদিন জামিনে ছিল। বুধবার দোষী সাব্যস্ত হতেই আদালত তাকেও জেলে পাঠায়।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ৬ জুলাই রাত ১০টা নাগাদ খাওয়াদাওয়া করে নিজের ঘরে ঘুমোতে যান তারকেশ্বর থানা এলাকার গৌরবাটি গ্রামের বাসিন্দা আদিত্য কোলে (৭২)। রোজকার মতো দরজা ভেজিয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। তাঁর স্ত্রী সাবিত্রী কোলে অন্য একটি ঘরে নাতনিকে নিয়ে শুয়েছিলেন। রাত ১টা নাগাদ স্বামীর ঘর থেকে কান্নার আওয়াজ শুনে সাবিত্রীর ঘুম ভেঙে যায়। তাড়াহুড়ো করে ঘর থেকে বেরোতে গিয়ে তিনি দেখেন, ঘরের দরজা বাইরে থেকে কে বা কারা বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি অনেকক্ষণ ধরে ডাকাডাকি করার পরে শেষে পর্যন্ত তাঁর নাতি দরজা খুলে দেয়।

সাবিত্রী আচমকা স্বামীর ঘরে ঢুকেই দেখেন, অমিত বাবার বুকের উপরে বসে আছে। তাঁর চোখের সামনেই বাবাকে গলা টিপে হত্যা করে অমিত। ভয়ে সাবিত্রী কোনও রকমে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। গভীর রাতে তিনি দেওরের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে সাবিত্রী তারকেশ্বর থানায় ছেলে-বৌমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

তারকেশ্বর থানার তদন্তকারী অফিসার অতি দ্রুততার সঙ্গে এই মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন। এই মামলায় স্পেশাল পিপি ছিলেন শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এখানে বৌয়ের প্ররোচনায় নিজের বাবাকে অমিত যে ভাবে খুন করেছে, তা এক কথায় নজিরবিহীন। আদালত সব কিছু খতিয়ে দেখে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *