আগুন ঘিরে শুরু রাজনীতির তরজা, পদ্ম-তিরে জোড়াফুল - 24 Ghanta Bangla News
Home

আগুন ঘিরে শুরু রাজনীতির তরজা, পদ্ম-তিরে জোড়াফুল

Spread the love

এই সময়: গত ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় সুরক্ষা–বিধির তোয়াক্কা না করায় মির্জ়া গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়েছে বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে যে ‘ড্যামেজ’ হয়েছে, তা দ্রুত ঠিকঠাক করা হচ্ছে বলে বুধবার এক্স হ্যান্ডলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এক্স-এ মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘পূর্বতন সরকার গাফিলতির যে লিগ্যাসি রেখে গিয়েছে — এই ট্র্যাজিক ঘটনা তা মনে করিয়ে দিচ্ছে। বছরের পর বছর অনিয়ন্ত্রিত ভাবে নির্মাণ হয়েছে। বাধ্যতামূলক অগ্নিবিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেখানে হোটেল বা অন্য ব্যবসা করতে দেওয়া হয়েছে। আগের সরকার বেসিক কমপ্লায়েন্স অডিট করতে ব্যর্থ হয়েছে, এর ফলে দ্রুত অসুরক্ষিত জায়গা তৈরি হয়েছে।’

তাঁর নির্দেশে বুধবার সকালেই রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, দমকল মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী ঘটনাস্থলে যান। শুভেন্দুর সুরে অগ্নিমিত্রাও নিয়ম না মেনে হোটেল গজিয়ে ওঠার জন্য তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘এ ভাবে হাজার হাজার হোটেল চলছে। কী করে ফায়ার এবং ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হলো? যিনি পুরমন্ত্রী ছিলেন, তিনিই আবার মেয়র ছিলেন। তিনি তা হলে কী করেছেন?’

যদিও প্রাক্তন পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম পাল্টা বলেন, ‘কোনও সরকারের পক্ষে সব হোটেল বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অডিট করা সম্ভব নয়। এ জন্য থার্ড পার্টি অডিট প্রয়োজন। ট্রেড লাইসেন্স অনলাইনে পাওয়া যায়, যে কেউ পেতে পারে। সেটা পাওয়া মানে বেআইনি কাজ করার অধিকার তৈরি হয় না। দিল্লিতেও হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মানুষ মারা গিয়েছে, দোষারোপ করে কোনও লাভ হয় না।’ কলকাতার আর এক প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘এর দায় প্রত্যেকের। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক সদিচ্ছার সঙ্গে সিভিক সেন্সেরও অভাব রয়েছে।’

কয়েক মাস আগে তারাতলার বিপর্যয়েও প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদকে কাঠগড়ায় তুলেছিল বিজেপি। এ বারও পুরসভার নাকের ডগায় মির্জ়া গালিব স্ট্রিটে অগ্নিদগ্ধ হোটেলে ফায়ার সেফটি ও অন্যান্য সুরক্ষা বিধি ঠিকঠাক ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, বিজেপি সরকার কি কঠোর পদক্ষেপ করতে চলেছে? অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, ‘আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট পেশ করব। প্রাক্তন মেয়র ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে কি না, সেটা শীর্ষ নেতৃত্ব ঠিক করবেন।’

শুভেন্দু–অগ্নিমিত্রা তৃণমূল জমানার দিকে আঙুল তুললেও ফিরহাদ বর্তমানে জোড়াফুলের বিদ্রোহী শিবিরে রয়েছেন। বিধানসভার বিরোধী সচেতক আখরুজ্জমান বলেন, ‘পুরোনো সরকারের উপরে সব দায় চাপিয়ে দিলে হবে না। তারাতলার ঘটনার পরে নতুন সরকার বলেছিল, সব রিভিউ করা হবে। কোথায় কী ঘাটতি রয়েছে দেখা হবে। সেগুলো দেখা হয়েছে? যেখানে একটি এসি চলার কথা, সেই লাইনে চারটি এসি চলছে। এর দায় নিতে হবে।’

তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের কথায়, ‘মেয়র ও পুরমন্ত্রী তো ফিরহাদ হাকিম ছিলেন। উনি এখন বিজেপির কোলে বসে দোল খাওয়া ভালো তৃণমূল। বিজেপি পূর্বতন সরকারকে দোষ দিচ্ছে। যদি মনিটরিংয়ের অভাব থাকে, আপনারা (বিজেপি) ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে কথা বলুন।’

সিপিএম ও কংগ্রেস নেতৃত্বও এ দিন ঘটনাস্থলে যান। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বক্তব্য, ‘পুরসভা, দমকল, পুলিশের নজরদারিতে দুর্নীতি থাকলে এমন ঘটনা বারবার ঘটবে।’ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘তারাতলার ঘটনার পরে ওঁরা বলেছিলেন, বিল্ডিং অডিট হবে, কেমন অডিট হলো? বিচারবিভাগীয় তদন্ত হোক।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *