Apple Foldable iPhone-এ বড় চমক, লঞ্চের পর মিলতে পারে কম স্টক
মুম্বই: অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন (Apple Foldable iPhone) নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সংস্থাটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ফোনটির অস্তিত্ব বা লঞ্চের সময়সূচি নিশ্চিত করেনি। তবে বিভিন্ন সরবরাহ-শৃঙ্খল সংক্রান্ত…
মুম্বই: অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন (Apple Foldable iPhone) নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সংস্থাটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ফোনটির অস্তিত্ব বা লঞ্চের সময়সূচি নিশ্চিত করেনি। তবে বিভিন্ন সরবরাহ-শৃঙ্খল সংক্রান্ত দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন প্রজন্মের প্রিমিয়াম আইফোনের সঙ্গে এই ভাঁজযোগ্য মডেল বাজারে আসতে পারে। কিন্তু লঞ্চের পরেই ফোনটি হাতে পাওয়া সহজ নাও হতে পারে। নতুন কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উৎপাদনের শুরুতে অ্যাপলের ভাঁজযোগ্য আইফোনের সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত থাকতে পারে। ফলে আগ্রহী ক্রেতাদের অনেককেই প্রি-অর্ডার করার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।
প্রথম কয়েক মাসে সীমিত থাকতে পারে উৎপাদন
অ্যাপলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষক মিং-চি কুও-র দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ভাঁজযোগ্য আইফোনের উৎপাদন প্রায় ৫ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ ইউনিট-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে বছরের শেষ নাগাদ মোট সরবরাহ বা বিক্রি ৭০ লক্ষ থেকে ৮০ লক্ষ ইউনিটে পৌঁছতে পারে বলে তাঁর অনুমান। অর্থাৎ বছরের শেষের দিকে উৎপাদন বাড়লেও লঞ্চের সময় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বরে ফোনটি বাজারে এলেও প্রথম কয়েক মাসে সব ক্রেতার হাতে দ্রুত ডিভাইস পৌঁছনোর নিশ্চয়তা নাও থাকতে পারে।
Also Read | অক্টোবরেই ভারতে আসছে Google Fitbit Air, স্ক্রিনহীন ওয়্যারেবলের দাম কত?
উৎপাদন বাড়াতে সময় লাগতে পারে
চিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক তথ্যদাতা ফিক্সড ফোকাস ডিজিটালের দাবি, প্রথম দফায় ভাঁজযোগ্য আইফোনের উৎপাদন অত্যন্ত সীমিত হতে পারে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছতে তিন থেকে পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে। যদি এই পূর্বাভাস সত্যি হয়, তাহলে সেপ্টেম্বরে ঘোষণার পরপরই ফোনটি অর্ডার করা ক্রেতাদের একটি অংশকে কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। অবশ্য অ্যাপল এখনও এই উৎপাদন পরিকল্পনা বা সরবরাহ সংক্রান্ত কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি। তাই এই সমস্ত তথ্যকে আপাতত সম্ভাব্য পূর্বাভাস এবং ফাঁস হওয়া তথ্য হিসেবেই দেখতে হবে।
২০১৭ সালের আইফোন এক্সের মতো পরিস্থিতি?
মিং-চি কুও অ্যাপলের ২০১৭ সালের আইফোন এক্স লঞ্চের উদাহরণও দিয়েছেন। সেই বছর সেপ্টেম্বরে ফোনটি ঘোষণা করা হলেও গ্রাহকদের হাতে পৌঁছতে নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ধাপে ধাপে বাজারে আসার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে ঘোষণা হলেও নির্দিষ্ট কিছু বাজারে ফোনটি বিক্রি শুরু হতে আরও সময় লাগতে পারে।
Also Read | ভারতে লঞ্চ হল রিয়েলমি 16x 5G! ৭০০০ mAh ব্যাটারির সঙ্গে আর কী কী চমক থাকছে?
দামও হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ
শুধু কম স্টক নয়, ফোনটির সম্ভাব্য দামও ক্রেতাদের জন্য বড় বিষয় হতে পারে। বিভিন্ন অনুমান অনুযায়ী, অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোনের দাম প্রায় ২,৩০০ থেকে ২,৫০০ মার্কিন ডলার হতে পারে। প্রতি ডলারের মূল্য ৯৫ টাকা ধরে ভারতীয় মুদ্রায় এই দাম আনুমানিক ২.১৮ লক্ষ থেকে ২.৩৮ লক্ষ টাকা। অবশ্য ভারতের চূড়ান্ত দাম নির্ভর করবে কর, শুল্ক এবং অ্যাপলের স্থানীয় মূল্য নির্ধারণের উপর। অর্থাৎ অত্যন্ত চড়া দাম এবং সীমিত সরবরাহ, এই দুই বিষয় একসঙ্গে কাজ করলে লঞ্চের সময় ফোনটির জন্য দীর্ঘ প্রি-অর্ডার তালিকা তৈরি হতে পারে।
সেপ্টেম্বরেই মিলতে পারে বড় উত্তর
অ্যাপল যদি সত্যিই সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন উন্মোচন করে, তাহলে সেই সময় ফোনটির নকশা, বৈশিষ্ট্য এবং দাম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। কিন্তু ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফোনটি হাতে পাওয়া যাবে, এমনটা নাও হতে পারে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিকে সীমিত উৎপাদন, উৎপাদন বাড়াতে কয়েক মাস সময় এবং সম্ভাব্য অত্যন্ত বেশি দাম ভাঁজযোগ্য আইফোনের প্রাথমিক বাজারে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। তবে অ্যাপল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করা পর্যন্ত লঞ্চের তারিখ, উৎপাদন সংখ্যা, দাম বা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সম্পর্কে কোনও তথ্যই নিশ্চিত নয়।