ইরান সংঘাতে আমেরিকার বড় ধাক্কা, হারিয়েছে ৪৫টি MQ 9 Reaper ড্রোন
নয়াদিল্লি: ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে আমেরিকার সামরিক ড্রোন বহর। মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর এখনও…
নয়াদিল্লি: ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে আমেরিকার সামরিক ড্রোন বহর। মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার (MQ 9 Reaper) ড্রোন হারিয়েছে আমেরিকা। সংঘাত শুরুর আগে মার্কিন হাতে থাকা রিপার ড্রোনের প্রায় ২৫ শতাংশের সমান এই সংখ্যা।
এমকিউ-৯ রিপার মূলত দীর্ঘক্ষণ আকাশে থেকে নজরদারি চালানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। সেন্সর ও অস্ত্রের কনফিগারেশনের উপর নির্ভর করে একটি রিপার ড্রোনের দাম প্রায় ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার হতে পারে। ফলে ৪৫টি ড্রোন হারানোর আর্থিক মূল্য ১৩০ কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে।
তবে হারানো সব ড্রোনই যে ইরানের হামলায় ধ্বংস হয়েছে, এমন নয়। এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, কয়েকটি ড্রোনের সঙ্গে অপারেটরদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সেগুলি ভেঙে পড়ে। সংঘাতের সময়ে ড্রোনগুলির প্রযুক্তিগত সমস্যারও মুখোমুখি হয়েছে মার্কিন সেনা।
হরমুজ প্রণালীর কাছে ব্যাপকভাবে ব্যবহার রিপার
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালী এবং তার আশপাশে ব্যাপকভাবে এমকিউ-৯ রিপার ব্যবহার করেছে মার্কিন সেনা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হওয়ায় এই অঞ্চলটি আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
রিপার ড্রোন দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে থেকে নজরদারি চালাতে পারে এবং প্রয়োজন হলে হামলাও করতে পারে। কিন্তু এর গতি তুলনামূলকভাবে কম এবং এগুলি অনেক সময় কম উচ্চতায় উড়ে থাকে। ফলে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং ইয়েমেন ও ইরাকে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলির পক্ষে এই ড্রোনগুলিকে লক্ষ্য করা তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।
সংঘাতের আগে আমেরিকার হাতে কত রিপার ছিল?
সংঘাত শুরুর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে আনুমানিক ১৮৫টি রিপার ড্রোন ছিল। এর মধ্যে ১৬৫টি মার্কিন বিমানবাহিনীর এবং ২০টি মেরিন কর্পসের হাতে ছিল। মার্কিন মেরিন কর্পস জানিয়েছে, তাদের কোনও রিপার ড্রোন এখনও পর্যন্ত হারায়নি। মে মাসে মার্কিন বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেভিড ট্যাবর মার্কিন সেনেটকে জানিয়েছিলেন, তখন আমেরিকার হাতে প্রায় ১৩৫টি রিপার ড্রোন অবশিষ্ট ছিল। সেই সময়ও তিনি ড্রোন হারানোর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
এর মধ্যেই আমেরিকা ধীরে ধীরে পুরনো রিপার ড্রোনগুলিকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ভবিষ্যতে তুলনামূলক কম খরচের এবং একসঙ্গে ঝাঁক হিসেবে অভিযান চালাতে সক্ষম সশস্ত্র ড্রোন দিয়ে সেগুলির জায়গা পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেছে আমেরিকা
ইরানের সঙ্গে সংঘাতে শুধু ড্রোন নয়, বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেছে মার্কিন সেনা। যুদ্ধের প্রথম মাসেই আমেরিকা ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১,০০০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। থাড ক্ষেপণাস্ত্র মূলত শত্রুপক্ষের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আটকানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে আমেরিকা বছরে সর্বাধিক প্রায় ৯৬টি থাড ইন্টারসেপ্টর তৈরি করতে পারে। অথচ হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছরই প্রায় ৮৫৭টি এবং আগামী পাঁচ বছরে মোট প্রায় ২,৬০০টি থাড ইন্টারসেপ্টরের প্রয়োজন হতে পারে।
অস্ত্রের মজুত ফের পূরণ করাই বড় চ্যালেঞ্জ
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের খরচ মেটানো এবং ক্ষয়ে যাওয়া অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে মার্কিন সরকার কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৬৭০০ কোটি ডলার বাজেট চেয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মতে, সেপ্টেম্বরের শেষে ইরান যুদ্ধের কারণে আমেরিকার ব্যয় প্রায় ৩৭৫০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে।
এর পাশাপাশি ইউক্রেনকে দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র সরবরাহ করাও মার্কিন সামরিক মজুতের উপর চাপ বাড়িয়েছে। ফলে একই সময়ে যুদ্ধের খরচ সামলানো, ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র সরবরাহ এবং নিজেদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন, তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে আমেরিকা।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, নতুন অস্ত্র ও ড্রোন তৈরি করতে সময় লাগে। ফলে বিপুল অস্ত্র ব্যবহারের পর দ্রুত মজুত পূরণ করা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।