শহরে পা রেখেই শিরোপার হুঙ্কার, গতবারের আক্ষেপ ভুলতে চান জেমি ম্যাকলারেন
বাবান আদক, কলকাতা: মরশুমের ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। আর এই ফুটবল উন্মাদনার মাঝেই কলকাতায় পা রাখলেন সবুজ মেরুন শিবিরের অজি তারকা জেমি ম্যাকলারেন (Jamie…
বাবান আদক, কলকাতা: মরশুমের ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। আর এই ফুটবল উন্মাদনার মাঝেই কলকাতায় পা রাখলেন সবুজ মেরুন শিবিরের অজি তারকা জেমি ম্যাকলারেন (Jamie Maclaren)। মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের স্কার্ফ গলায়, পুষ্পস্তবকে সজ্জিত ম্যাকলারেনকে শহরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান ‘এ-লিগ’ এর ইতিহাসের সফলতম স্ট্রাইকার তিনি। তবে একজন ক্রীড়া বিশ্লেষক হিসেবে নিছক পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে যদি তাঁর মানসিকতা ও বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করা যায়, তবে দেখা যাবে শহরে পা রেখেই তিনি তাঁর লক্ষ্য একেবারে স্থির করে ফেলেছেন। বিমানবন্দরে নেমেই ম্যাকলারেনের প্রথম বক্তব্যেই গতবারের আক্ষেপ মুছে ফেলার একটা মরিয়া জেদ চোখে পড়ে। “আমাদের গত বছরের চেয়ে আরও এক ধাপ এগোতে হবে,” ম্যাকলারেন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। গত মরশুমে অল্পের জন্য লিগ হাতছাড়া হওয়ার যে হতাশা দলের অন্দরে রয়ে গেছে, তা নতুন এই তারকার কথাতেই স্পষ্ট।
Also Read English |
ডুরান্ড কাপ এবং বাস্তবমুখী রণনীতি
যেকোনো পেশাদার ফুটবলারের কাছে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়াটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। ম্যাকলারেন এই বিষয়ে অত্যন্ত বাস্তববাদী এবং যুক্তিনির্ভর। মরশুম শুরু হয়ে গেলেও তিনি দ্রুত দলের সাথে মানিয়ে নিয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত। তাঁর কথায়, “প্রথমেই ডুরান্ড কাপ। আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনও ডুরান্ড কাপ জিতিনি, তাই এখানে চলে এসেছি যাতে দলকে সাহায্য করতে পারি এবং এই ট্রফিটা জিততে পারি। সমর্থকদের দারুণ একটা শুরু উপহার দিতে চাই।” এটি শুধু একটি ট্রফি জয়ের আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং এটিকে বলা যেতে পারে মোহনবাগান সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণের মানসিকতা।
কোচের সাথে আলোচনা ও নতুন রসায়ন
ফুটবল কেবল এগারো জনের বল দখলের লড়াই নয়, এটি মনস্তত্ত্ব ও রণনীতিরও খেলা। ম্যাকলারেন জানিয়েছেন যে, শহরে পা রেখেই কোচের সাথে তাঁর ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। দলে এবার একাধিক নতুন ফুটবলার যোগ দিয়েছেন। একজন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার হিসেবে তিনি খুব ভালো করেই জানেন, ফুটবলে রাতারাতি সাফল্য আসে না, মাঠে নতুন রসায়ন তৈরি হতে সময় লাগে। “আমাদের মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগবে ঠিকই, তবে আমাদের স্কোয়াডটা দুর্দান্ত। আমি এখানে আসতে পেরে সত্যিই খুব খুশি এবং আমাদের হাতে এখন অনেকটা সময় রয়েছে,” আত্মবিশ্বাসী ম্যাকলারেনের সংযোজন।
যুক্তি এবং বাস্তবতার নিরিখে ম্যাকলারেনের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মরশুম শুরু হয়ে যাওয়ার এই আবহে তিনি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না, বরং মাটিতে পা রেখে বাস্তবের নিরিখে লড়াইয়ের কথা বলছেন। তবে শহরে পা রেখেই তাঁর এই স্পষ্ট বার্তা বুঝিয়ে দিল, তিনি শুধু ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান বাড়াতে আসেননি, এসেছেন কলকাতার বুকে নতুন ইতিহাস গড়তে।
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের