কাঠুয়ায় পাকিস্তানি ড্রোনের অনুপ্রবেশ, পুঞ্চে জঙ্গি খোঁজে তল্লাশি জোরদার
শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu Kashmir) আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর নিরাপত্তা আরও কড়া করা হয়েছে। মঙ্গলবার কাঠুয়া জেলার হিরানগর সেক্টরের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি সন্দেহভাজন পাকিস্তানি ড্রোন…
শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu Kashmir) আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর নিরাপত্তা আরও কড়া করা হয়েছে। মঙ্গলবার কাঠুয়া জেলার হিরানগর সেক্টরের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি সন্দেহভাজন পাকিস্তানি ড্রোন ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশ করায় নিরাপত্তা বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে। একই সময়ে পুঞ্চ জেলার একাধিক গ্রামে জঙ্গিদের সম্ভাব্য গতিবিধির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গোটা অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ২টা নাগাদ কাঠুয়ার ববিয়ান এলাকার হিরানগর সেক্টরের সুখমল, দেবিন্দেরা এবং তাপন গ্রামের উপর দিয়ে একটি ড্রোনকে উড়তে দেখা যায়। ড্রোনটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল বলে দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর।
ড্রোনটি শনাক্ত করার সঙ্গে সঙ্গেই সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। নিরাপত্তা বাহিনী ড্রোনটিকে ভূপাতিত করার চেষ্টা করলেও সেটি অনেক উঁচুতে উড়ছিল। ফলে সেটি গুলি বা অন্য কোনও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার আওতার বাইরে থেকে দ্রুত পাকিস্তানের দিকে ফিরে যায়।
এরপরই বিএসএফ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ যৌথভাবে এলাকাজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। নিরাপত্তা বাহিনীর মূল লক্ষ্য ছিল ড্রোনটি কোনও অস্ত্র, বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক সামগ্রী ফেলে গিয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তল্লাশি অভিযান চলছিল এবং কোনও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার হয়েছে বলে জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, পুঞ্চ জেলার সুরানকোট ও মেন্ধর তহসিলের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতেও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলছে। গোয়েন্দা সূত্রে দুই জঙ্গি গোষ্ঠীর চলাচলের খবর পাওয়ার পর জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (SOG), রাষ্ট্রীয় রাইফেলস এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে ধারা সাংলা, গুজ্জর নার, খেরোওয়ালি ঢোক, কালাবান-সহ একাধিক এলাকায় তল্লাশি চালায়।
এখনও পর্যন্ত জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর কোনও সংঘর্ষের খবর মেলেনি। তবে গোটা এলাকা ঘিরে ধাপে ধাপে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে কাঠুয়ার হিরানগর সেক্টরের কাট্টাল-ব্রাহ্মণা গ্রামে একটি বাড়ির উঠোনে খননের সময় একটি পুরনো মর্টার শেল উদ্ধার হয়। শ্রমিকরা সেটি দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। পরে বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড (BDS) ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপদে বিস্ফোরকটি সরিয়ে নিয়ে যায়।
এই ঘটনাগুলি এমন সময় ঘটল, যখন ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তান ভারত সীমান্তের বিপরীতে প্রায় ২৫০টি চীনা নির্মিত SH-15 স্বচালিত ১৫৫ মিমি আর্টিলারি গান মোতায়েন করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর জবাবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যা প্রয়োজন ভারত তা করবে এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ বন্ধ হওয়া উচিত।
গত কয়েক সপ্তাহেও জম্মু-কাশ্মীরে একাধিকবার পাকিস্তানি ড্রোনের গতিবিধি নজরে এসেছে। গত মাসে রাজৌরির সুন্দরবানি সেক্টরে সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্দেহভাজন ড্রোন দেখা গিয়েছিল। জুন মাসে পুঞ্চের বালাকোট সেক্টরেও একটি পাকিস্তানি ড্রোনকে লক্ষ্য করে ভারতীয় সেনা গুলি চালায়, যার পর সেটি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের দিকে ফিরে যায়।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তে ড্রোনের ব্যবহার এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। অস্ত্র, বিস্ফোরক বা মাদক পাচারের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে বিএসএফ, সেনাবাহিনী এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ।