নির্দেশে বিতর্ক! সরকারি হাসপাতালে মোবাইল ব্যবহারে কড়াকড়ি
তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর (East Midnapore) জেলার সরকারি হাসপাতালগুলিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ (Mobile Ban) জারি করেছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। চিফ মেডিক্যাল অফিসার অব হেলথ…
তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর (East Midnapore) জেলার সরকারি হাসপাতালগুলিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ (Mobile Ban) জারি করেছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। চিফ মেডিক্যাল অফিসার অব হেলথ (CMOH)-এর সাম্প্রতিক প্রশাসনিক নির্দেশিকা প্রকাশের পর থেকেই রোগী, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং চিকিৎসকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অনেকেরই দাবি, বর্তমান ডিজিটাল যুগে এমন নির্দেশ বাস্তবসম্মত নয় এবং এতে সাধারণ মানুষের সমস্যাই বাড়বে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভিতরে এবং হাসপাতাল চত্বরে রোগী ও দর্শনার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভিতরে ছবি তোলাও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের আত্মীয়রা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি ছাড়া ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে পারবেন না। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ রয়েছে ওই সার্কুলারে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তমলুকের তাম্রলিপ্ত সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল, গ্রামীণ হাসপাতাল এবং ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র-সহ একাধিক সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। নতুন নির্দেশিকা এই সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রযোজ্য।
Also Read | IIEST শিবপুরে ৪.৪ একরের নেচার স্টাডি পার্ক, থাকছে বাটারফ্লাই গার্ডেন থেকে ওপেন-এয়ার জিম
তবে মোবাইল ফোনের উপর এই সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চিকিৎসক মহল ও সাধারণ মানুষের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন। এক সরকারি হাসপাতালের এক প্রবীণ চিকিৎসকের বক্তব্য, বর্তমানে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম মোবাইল ফোন। এমন পরিস্থিতিতে রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হাসপাতাল চত্বরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে না দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
আরও এক সরকারি মেডিক্যাল কলেজের এক প্রশাসনিক কর্তার মতে, কয়েক বছর আগে স্বাস্থ্য দফতর অনলাইন ওপিডি (OPD) টিকিট ব্যবস্থা চালু করেছে। সেখানে রোগীর মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হয়। ফলে একদিকে ডিজিটাল পরিষেবার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে হাসপাতাল চত্বরে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে, যা পরস্পরবিরোধী বলে মনে করছেন অনেকেই।
Also Read | ২০২৮ থেকে রাজ্যের স্কুলে নতুন সিলেবাস, NEP 2020 অনুযায়ী বড় পরিবর্তন
এক সরকারি চিকিৎসক বলেন, ভর্তি থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে ওয়ার্ডের ভিতরে মোবাইল ব্যবহারে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে। কিন্তু হাসপাতাল চত্বরে রোগী বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর মতে, যখন সরকার ডিজিটাল পরিষেবা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন এমন সিদ্ধান্ত অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
তবে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে এই নির্দেশিকার উদ্দেশ্য হিসেবে রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা, হাসপাতালের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মোবাইল ব্যবহারে বিধিনিষেধের পাশাপাশি নতুন নির্দেশিকায় জেলার সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল চত্বরে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কথাও বলা হয়েছে।
এই নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পর তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। রোগীর গোপনীয়তা ও হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করলেও, মোবাইল ব্যবহারে এত বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতে সংশোধন করা হবে কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ মানুষের।