Obesity in India: শিশুদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ওবেসিটিতে দ্বিতীয় ভারত | Growing concern over children india ranks second in obesity
পিজ্জা-পাস্তা-আলুর চিপস-আইসক্রিম — মোটা বানাচ্ছে ভারতীয় বাচ্চাদের? সামনে এল চমকে ওঠার মতো পরিসংখ্যান। ভারত আজ পৃথিবীর দ্বিতীয় দেশ, যেখানে কোটি কোটি শিশু অতিরিক্ত ওজন বা ওবেসিটি-র শিকার। আজ আমাদের দেশে ৪ কোটিরও বেশি শিশু অতিরিক্ত ওজন সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে। সম্প্রতি এক ব্রিটিশ গণমাধ্যমে ইউরোপীয় শিশুদের অতিরিক্ত ওজন নিয়ে এক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। ওই রিপোর্টে উল্লেখ, ওবেসিটি এখন বিশ্বজনীন সমস্যা। ইটালিতে ৮ থেকে ৯ বছরের মধ্যে প্রায় ৪০% বাচ্চারাই ওবেসিটিতে ভুগছে। এর জন্য দায়ী করা হয়েছে বেশি পিজ্জা, বার্গার, পাস্তা, আলু খাওয়া। WHO -র রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরোপের মধ্যে ওবেসিটি সবচেয়ে বেশি ইতালিতে।
অন্যদিকে, ভারত আজ বিশ্বের মধ্যে শিশুদের ওবেসিটিতে দ্বিতীয়। চিনের পরেই। ইউনিসেফের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এখনই এই সমস্যার কড়া হাতে মোকাবিলা না করা হলে ২০৪০-র মধ্যে ৫ কোটিরও বেশি ভারতীয় শিশু অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগবে। গত ২ দশকে আমাদের দেশে ওবেসিটি হু হু করে বাড়ছে। শিশু, কিশোররা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আপনার-আমার বাড়ির শিশুটি ধীরে ধীরে এক ভয়ঙ্কর বিপদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এর জন্য দায়ী কে? কোনও বাইরের শত্রু নয়… আমরা নিজেরাই!

চিকিৎসকরা বলছেন, ওবেসিটি-র জন্য দায়ী
১. অতিরিক্ত খাওয়া- বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবার ও ফাস্টফুড, প্রসেসড ফুড
২. পরিশ্রমের অভাব – সারাদিন অলস ভাবে সময় কাটানো বা কম হাঁটাচলা
৩. জিনগত প্রভাব – পরিবারে হরমোনের সমস্যা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
৪. রোগের ঝুঁকি – ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের সম্ভাবনা
একটু ভেবে দেখুন তো, শেষ কবে আপনার সন্তানকে বিকেলে মাঠে গিয়ে ধুলোবালি মেখে খেলতে দেখেছেন? মনে পড়ছে না তো? কারণ, মাঠের জায়গা এখন কেড়ে নিয়েছে মোবাইল বা ট্যাবলেট স্ক্রিন। ঘরে তৈরি খাবারের জায়গা নিয়েছে প্লাস্টিকের প্যাকেটে আল্ট্রা প্রসেসড ফুড। আমরা ভাবি, নামী ব্র্যান্ডের ওটস বিস্কুট বা ফলের রস খাওয়াচ্ছি, মানেই সন্তানের ভাল করছি। ভুল! এই চকচকে প্যাকেটের আড়ালে লুকিয়ে আছে মাত্রাতিরিক্ত চিনি, ক্ষতিকর ফ্যাট আর সোডিয়াম। আমরা ভালোবেসে বাচ্চার মুখে খাবার তুলে দিচ্ছি না, বিষ তুলে দিচ্ছি!

ডাক্তাররা বলছেন, ওবেসিটির কারণে বাচ্চাদের লিভারে চর্বি জমছে, যাকে বলে ফ্যাটি লিভার। এখানেই শেষ নয়, মোটা দেখতে, বেশি ওজনের জন্য স্কুলের সহপাঠীদের ঠাট্টা-তামাশার শিকার হয়ে এই বাচ্চারা ভেতরে ভেতরে চরম ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদে ভুগছে বলেও জানাচ্ছেন মনোবিজ্ঞানীরা। আমরা কি সত্যি আমাদের সন্তানদের এমন একটা ভবিষ্যৎ দিতে চেয়েছিলাম? তবে চাইলেই এই সমস্যার মোকাবিলা করা যায়।
কোন পথে সমাধান?
- প্যাকেটজাত খাবার, কোল্ড ড্রিংকস, জাঙ্ক ফুড আজই বন্ধ করুন
- বাচ্চাকে যতটা সম্ভব ঘরের তৈরি সাধারণ খাবার খাওয়ান
- শিশুর স্ক্রিন টাইম কমান
- মোবাইল সরিয়ে বাচ্চার হাতে ফুটবল, ব্যাডমিন্টন বা সাইকেল তুলে দিন
- দিনে অন্তত এক ঘণ্টা বাড়ির বাচ্চাকে ঘাম ঝরাতে দিন
চিকিৎসকদের পরামর্শ- নিজেকে বাচ্চার সামনে উদাহরণ হিসাবে তৈরি করুন। নিজে সারাদিন ফোন ঘেঁটে বাচ্চাকে বই পড়তে বা খেলতে বললে ও শুনবে না। বাচ্চার সাথে নিজেও একটু হাঁটুন। মনে রাখবেন, আজ আপনার বাচ্চার প্লেটে আপনি কী তুলে দিচ্ছেন, সেটাই ঠিক করবে আগামী ২০ বছর পর সে কতটা সুস্থ থাকবে। আজ ৫ থেকে ১৯ বছরের দেড় কোটি ভারতীয় ওবেসিটির খাদের ধারে দাঁড়িয়ে। ১১-১৭ বছরের কিশোর কিশোরীরা বাইরে খেলতে যেতে বিমুখ। সঙ্গে পুষ্টির অভাব তো রয়েছেই। ভারতকে ওবেসিটি মুক্ত করতে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ কড়া পলিসি নির্ধারণের ভাবনা চিন্তা করছে।