সিলেবাসে বদল, পোশাক ও স্কুল ভবনে ঐতিহ্যেই জোর
এই সময়: রাজ্যে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত ২০২০-র জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকরের কথা আগেই জানিয়েছে বিজেপি সরকার। এ বার প্রথম শ্রেণি থেকে স্কুলস্তরের সিলেবাস আমূল বদল করার কথা জানালেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। ইতিমধ্যে সিলেবাস কাম কারিকুলাম কমিটি গড়েছে রাজ্য। সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ীই বদল করা হবে সিলেবাসে।
২০২৭-এর শিক্ষাবর্ষেই পড়ুয়ারা পরিমার্জিত সিলেবাস পাবে বলে মন্ত্রীর বক্তব্য। অর্থাৎ, পাঠ্যবইয়ে বদল আসবে। আর ২০২৮ থেকে জাতীয় শিক্ষানীতি পুরোপুরি কার্যকর হলে সেই নীতিকে সামনে রেখে প্রথম শ্রেণি থেকে পুরো বদলে যাবে সিলেবাস। ফের বদলাবে বই।
দীপক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আজকের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্যে যে সিলেবাস প্রয়োজন, সেটাই করা হবে। মাঝেমধ্যে রিভিউ কমিটি তৈরি করা হয়ে থাকে, সে রকমই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটির প্রথম পরিকল্পনা, ২০২৭-এ যে বই বেরোবে, সেগুলি রিভিউ করা হবে। ২০২৮-এ শিক্ষানীতি অনুযায়ী সিলেবাস তৈরি হবে। কমিটি যা সুপারিশ করবে, সেই অনুযায়ী সিলেবাস তৈরি হবে।’ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা মতোই কমিটি সিলেবাস তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
পাশাপাশি স্কুল-ছুট রুখতে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুলিং’ (এনআইওওএস)-এর সঙ্গে মউ সই হয়েছে সরকারের। এক রাজ্য থেকে অন্যত্র কোনও পরিবার বা পড়ুয়া স্থানান্তিরত হলে যাতে তার পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই মউ সই হয়েছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত স্তরেও যাতে এমন সেন্টার খোলা যায়, সেই চেষ্টাও হবে বলে জানিয়েছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন থেকে ঐতিহ্য মেনে স্কুল ভবনের ও স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পোশাকের রং ঠিক করতে পারবেন স্কুল কর্তৃপক্ষই। ২০১৮-য় স্কুলশিক্ষা দপ্তরের তরফে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও পোষিত স্কুলে নীল-সাদা রং করার জন্যে সরকারি নির্দেশিকা জারি হয়েছিল। তৎকালীন স্কুলশিক্ষা সচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালের পাঠানো নির্দেশে বলা হয়েছিল, সরকারি নিয়মে যে রঙের কথা বলা আছে, সেটাই করতে হবে।
স্কুলশিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তৃণমূল সরকারের আমলে নীল-সাদাই ছিল সরকারি রং। সেজন্য অর্থ সরকারই দিয়েছে। ব্যতিক্রম হিসেবে কিছু স্কুল অবশ্য সেই পথে এখনও হাঁটেনি। দীপক বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমরা জানিয়েছি, স্কুলগুলি নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য মেনে নিজেদের রং পছন্দ করতে পারবে। সেই স্বাধীনতা স্কুলকে দেওয়া হয়েছে। স্কুলের পোশাক নিয়ে ইতিমধ্যে সমীক্ষাও শুরু হয়েছে। পোশাকে বিশ্ব বাংলার লোগো রাখা যাবে না।’ দীর্ঘদিন ধরে যেখানে নীল-সাদা পোশাকই রয়েছে, সেখানে তেমনই থাকবে বলে জানানো হয়েছে।