Terrorist Arrest: একদম ছাপোষা চেহারা, হাওড়ার গেঞ্জি কারখানায় ঘাম ঝরানো হামিদই মুখ্যমন্ত্রীকে খুনের প্ল্যান কষছিল! আর যা যা জানা গেল… | Decent Looking Guy, Factory Worker turned out to be Kashmiri Terrorist, who was Arrested for Plotting Attack on Chief Minister Suvendu Adhikari?
এই আবাসনেই থাকছিল জঙ্গি।Image Credit: TV9 বাংলা
কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে খুনের ছক! বাংলার বুক থেকেই গ্রেফতার জইশ জঙ্গি। হামিদ মন্ডল নামে এক কাশ্মীরী জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ ও বর্ধমান পুলিশ। হামিল সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সদস্য এই হামিদ। এই জঙ্গিগোষ্ঠী মূলত পাকিস্তানের সংগঠন। এরা টাকার বিনিময়ে খুন, তোলাবাজি ও সন্ত্রাসবাদী কাজ করে। এই সংগঠন বিগত কয়েক বছর ধরে কাশ্মীরে মাথাচাড়া দিয়েছে। এবার বাংলাতেও সেই জঙ্গি সংগঠনের সদস্যের খোঁজ মিলল। ধৃত হামিদকে কী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল?
কে এই হামিদ?
সূত্রের খবর, পূর্ব ভারতে ক্রমশ জাল বিস্তার করছে সাজ্জাদ ভাট্টি গোষ্ঠী। হামিদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পূর্ব ভারতে এই জাল বিস্তারের। মগজ ধোলাই করত সে। পাশাপাশি সংগঠনের কাজ বিস্তারের জন্য কেউ এলে, তাকে সবরকমভাবে সাহায্য করা।
অতি সাধারণ দেখতে হামিদ। তবে তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, ধূর্ততায় স্তম্ভিত গোয়েন্দারাও। জানা গিয়েছে, হাওড়ার পিলখানার বাসিন্দা হামিদ। তাঁর বাবা গেঞ্জির কারখানায় কাজ করত। সে-ও তাঁর বাবার সঙ্গেই ওই কারখানায় কাজ করত। বিগত দুই থেকে তিন মাস ধরেই হামিদ বর্ধমানে থাকছিল, ঠিক যেই সময়ে রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। বর্ধমানে বসেই কি তবে মুখ্যমন্ত্রীর উপরে হামলার ছক কষছিল? গোয়েন্দারা এই তথ্যই খতিয়ে দেখছে।
বর্ধমানের যে রেনেসাঁ হাউসিং থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই হাউসিং সোশ্যাইটি বর্ধমানের হাইওয়ের উপরই অবস্থিত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নানা কর্মসূচিতে গোটা রাজ্য চষে বেড়াচ্ছেন। তবে কি নিজের বাড়ির আড়াল থেকেই হামলার ছক ছিল?
উত্তর-পূর্ব ভারতে ছড়াচ্ছিল জাল?
এদিকে, এক সপ্তাহের মধ্যে দুই রাজ্য থেকে সাজ্জাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর জঙ্গিরা জালে ধরা পড়েছে। এর আগে অসম পুলিশ পাকিস্তানের শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত একটি সন্ত্রাসী মডিউলের সন্ধান পায়। গত শনিবার (২৫ জুলাই) উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্য থেকে তিন সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গত শুক্রবার ধুবড়ি, চিরাং ও বরপেটা জেলার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) অভিযান চালায়। অভিযানে ৫টি মোবাইল ফোন, ৭টি সিম কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবুক, ডেবিট কার্ড এবং সন্দেহজনক নথিপত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়।
জানা গিয়েছে, এই নেটওয়ার্কটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সদস্য সংগ্রহ, অনলাইনে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধকরণ, রেইকি , লজিস্টিক সহায়তা, গুপ্তচরবৃত্তি, অবৈধভাবে অস্ত্র সংগ্রহ, স্লিপার সেল গঠন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তা করার মতো কাজে জড়িত ছিল।
আরও জানা গিয়েছে, এই নেটওয়ার্কটি পাকিস্তানের হ্যান্ডলার এবং এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে, আইএসআই (ISI)-সহযোগিতায় কাজ চালাত। ২০২৬ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ২৪ মে পঞ্জাব পুলিশের কর্মীদের ওপর দুটি ‘টার্গেটেড কিলিং’ বা সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছিল টিটিএইচ। নলবাড়ি জেলায় একটি তদন্তের সময় অসমে এই নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ প্রথম নজরে আসে, যার জেরে ২২ মে এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
সাজ্জাদ ভাট্টি ও আজমল গুজ্জার গ্যাংয়ের কার্যকলাপ —
- পাক আইএসআই পোষিত সাজ্জাদ গ্যাং ভারতে ছদ্মবেশে “তেহরিক – ই – তালিবান হিন্দুস্তান” নামে শাখা খুলেছিল।
- সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিরিয়ানি ব্যবসায়ী, সবজি বিক্রেতা তরুণ যুবকদের টার্গেট করে গ্যাং-এর অংশ বানিয়েছে।
- উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থানে ইতিমধ্যেই ছড়িয়েছে এই গ্যাং।
- দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ইতিমধ্যেই এরকম ১২ জন যুবককে গ্রেফতার করেছে।
- ধৃতদের জেলা করে জানা গিয়েছে পঞ্জাব সীমান্ত হয়ে অস্ত্র এবং মাদকের কারবার চালানোর পাশাপাশি ধরে ধরে পুলিশ অফিসারদের খুন করার টার্গেট দেওয়া হতো তাদের।
- তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান পোস্টার মারতে ৫০০০ টাকা ও পুলিশ অফিসার খুনে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত দিয়েছে সাজ্জাদ গ্যাং। গুরুদাসপুরে দুই অফিসার কে খুনের দায় ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছে এই জঙ্গিগোষ্ঠীটি।
- ইন্সটাগ্রাম, টেলিগ্রাম সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় সাজ্জাদ রিক্রুটমেন্ট চালায়।
- যাদের যে টার্গেট দেওয়া হয় তাদেরকে নিজেই ভয়েস নোট পাঠায় সাজ্জাদ।
- পাকিস্তান থেকে পাঞ্জাব সীমান্ত হয়ে দিল্লিতে অস্ত্র ও মাদক সরবরাহ করেই ফান্ড জোগাড় করে সাজ্জাদ গ্যাং।