‘এটা কুল হওয়ার বিষয় নয়’, ইনস্টায় ভিডিয়ো ‘কুইন’-এর… পাল্টা মন্তব্য দীপকে-র
ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে ‘কুরুচিকর’ মন্তব্য করেছে জেন জ়ি-র একাংশ। তাই এই প্রজন্মকে ‘জেনারেশন গাটার’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন মান্ডির বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রনৌত। অভিনেত্রীর এ হেন অভিযোগের পরে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন CJP-র মুখপাত্র সৌরভ দাস। মান্ডির সাংসদকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, ‘নিজের দলের লোকেরাই তাঁকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। তা হলে আমরাই বা কেন দেব? আমার মনে হয় না জেন জ়ি, জেন আলফা বা তরুণ প্রজন্মের কেউ তাঁকে আদৌ গুরুত্বের সঙ্গে নেন, কিংবা তাঁর কথা শোনেন।’
কঙ্গনার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে সমালোচনার ঝড়। প্রসঙ্গত, যন্তর মন্তরের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে ভাবে জেন জ়ি-র সমর্থনে সোচ্চার হয়েছেন নাগরিক সমাজের বিশিষ্টরা, সেখানে কঙ্গনার ‘জেনারেশন গাটার’-এর মতো মন্তব্যকে অনেক নেটিজ়েন একেবারেই ভালো চোখে দেখেননি। বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রীর বেশ কিছু পুরোনো ভিডিয়োও খুঁজে বের করে একের পর এক মন্তব্য শুরু হয় সামাজিক মাধ্যমে। চর্চা তুঙ্গে উঠতেই নিজের ‘জেনারেশন গাটার’ মন্তব্যের সাফাই দিয়ে বুধবার পাল্টা ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন ‘ভারত ভাগ্যবিধাতা’ ছবির অভিনেত্রী কঙ্গনা। কী বললেন তিনি?
ইনস্টা ভিডিয়োয় কঙ্গনা এ দিন বলেন, ‘আমি এই রিলটি মিডিয়ার বন্ধুদের জন্য করছি। কারণ, আমি এমন কিছু বিক্ষোভকারীকে থামিয়েছি, যারা রাস্তায় শিশু, বয়স্ক, নারীদের সামনে অনৈতিক, অশালীন আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছিল। আমরা এই সমাজে এটা মেনে নিই না।’
কঙ্গনা আরও যোগ করেছেন, ‘আমি চাই না কিছু মানুষের অনৈতিক কার্যকলাপের কারণে আমাদের সন্তানরা অপরিণত বয়সেই যৌনতা হেনস্থার শিকার হোক। বড়দের সামনে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাক। আমরা এই ধরনের আচরণ মেনে নেব না। তাই মিডিয়া আমার বিরুদ্ধে জোট বাঁধছে।’
জেন জ়ি-কে নিয়ে করা মন্তব্য প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কঙ্গনা সমাজে পজ়িটিভ অবদান রাখা তরুণদের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘স্কাই রুটের মতো স্টার্টআপকে আমি যে কতটা পছন্দ করি, ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এমনকী, আমি দেশের সেই সব জেনজ়ি ছেলেমেয়েরও প্রশংসা করেছি, যারা সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন।’
একই সঙ্গে তিনি দলে (BJP) থাকা জেন জ়ি ছেলেমেয়ে ও তাঁর নিজের পরিবারে এই প্রজন্মের ভাইবোনদের কথাও উল্লেখ করেছেন। নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে থাকার কোনও বিকল্প নেই। তবে বেশিরভাগ মানুষই লোকদেখানো কাজ করতে চায়, দাবি কঙ্গনার। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা অন্যের স্বার্থের বিনিময়ে হওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন কঙ্গনা। সমাজে বাস করতে হলে সকলেরই সংবিধান মেনে চলা বলে মত অভিনেত্রীর।
জেন জ়ি-র একাংশের উদ্দেশে কঙ্গনার বার্তা, ‘আমার বাবা-মায়ের প্রতি তোমাদের কোনও আবেগ যদি না-ও থাকে, এমনকী যদি আমার বাড়ির সন্তানদের প্রতি তোমাদের কোনও অনুভূতি না থাকে, তার মানে এটা নয় যে, তোমরা রাস্তায় তাদের উপর অত্যাচার করবে, মর্যাদাহানি করবে। বাচ্চারা প্রধানমন্ত্রীকে ‘এগজ়াম বাডি’ বলে ডাকে। তাঁর সঙ্গে বহু মানুষের অনুভূতি জড়িয়ে রয়েছে। কেউ তাঁকে নেতা হিসেবে দেখে, কেউ বন্ধু হিসেবে, কেউ পরিবারের সদস্য হিসেবে, কেউ দেবতা হিসেবে। কেউ কারও অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে না। এটা ‘কুল’ হওয়ার বিষয় নয়, সাধারণ নাগরিক বোধ। আর যদি আপনার মধ্যে সেটা না থাকে, তবে আপনাকে তা শিখতে হবে।’
কারও অনুভূতিতে আঘাত করা প্রসঙ্গে মান্ডির সাংসদ বলেন, ‘আমি আমার গুরুজনদের কাছ থেকে যা শিখেছি, তা হলো, এই জীবনটা পেয়েছি বিকশিত হওয়ার জন্য। পাশবিক প্রবৃত্তিকে দমন করুন। তাই অনুগ্রহ করে বিকশিত হোন।’
এ দিকে, ককরোচ জনতা পার্টি-র নেতা অভিজিৎ দীপকে এ দিন জেন জ়ি-র উদ্দেশে কঙ্গনার ‘জেনারেশন গাটার’ মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিজেপি সাংসদের উদ্দেশে অভিজিৎ বলেন, ‘তাঁকে কে-ই বা গুরুত্ব দেয়? ’ এমনকী, অভিনেত্রীর মানসিক স্থিতিশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ। তাঁর বিরুদ্ধে ‘জোয়ারে গা ভাসানোর’ চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন দীপকে। অভিজিতের কথায়, ‘কঙ্গনা সম্পর্কে আমার সত্যিই কিছু বলার নেই, তাঁর নিজের দলের সদস্যরাই তো তাঁকে সিরিয়াসলি নেন না।’