সরকারের ‘অন্দরমহলে’ও ‘Gen Z’ আন্দোলনের আঁচ, অসমের মন্ত্রীর মেয়ে ছাড়া কোন BJP নেতার সন্তান হাজির প্রতিবাদীদের মিছিলে?
NEET-UG প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবি এবং ছাত্র আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে চলা ‘Gen Z’ বিক্ষোভ এ বার শাসক জোট NDA-র অন্দরেও আলোড়ন তুলেছে। বিজেপি ও NDA-ঘনিষ্ঠ একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের তরুণ সদস্যরা প্রকাশ্যে আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এর ফলে সরকার ও বিজেপির অস্বস্তি আরও বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে।
কারা সমর্থনে এগিয়ে এলেন?
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসমের এক মন্ত্রীর মেয়ে, ওডিশার বিজেপি সাংসদের মেয়ে এবং উত্তরপ্রদেশের এক প্রাক্তন বিজেপি বিধায়কের মেয়ে-সহ একাধিক রাজনৈতিক পরিবারের তরুণ সদস্যরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শুধু তাই নয়, অসমের এক মন্ত্রীর মেয়েয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির পোস্টার তুলে মিছিলে হাঁটতে দেখা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে যে, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শ রয়েছে। অভিভাবকদের কখনই নিজেদের মতাদর্শে অন্ধভাবে উদ্বুদ্ধ করা উচিত নয়। বাবার সরকারি বা রাজনৈতিক পদ ও দলের বিপরীতে গিয়ে মেয়ের এমন সরাসরি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং মন্তব্য তাঁদের বক্তব্যে পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবি উঠে এসেছে।
অসমের ঘটনায় ব্যাখ্যা হিমন্তের
অসমে বিজেপি সরকারের এক মন্ত্রীর কন্যার আন্দোলনপন্থী মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দিতে হয়। তিনি মন্ত্রিসভার সহকর্মীর পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত মতামতকে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিকের অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয়।’
অসমে বিজেপি সরকারের এক মন্ত্রীর কন্যার আন্দোলনপন্থী মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দিতে হয়। তিনি মন্ত্রিসভার সহকর্মীর পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত মতামতকে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিকের অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয়।
এক নজরে
-
NEET-UG প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে Gen Z আন্দোলনের প্রভাব NDA-র অন্দরেও
-
অসমের এক মন্ত্রীর কন্যাকে আন্দোলনের মিছিলে দেখা যাওয়ার দাবি
-
বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর কন্যার পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক
-
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্য, পরিবারের সদস্যের মতামতকে রাজনীতিকের অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয়
-
অর্চিতা সচিন রাহা পোস্ট মুছতে অস্বীকার করেন
-
বিজেপির একাংশের সমালোচনার মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন তিনি
-
শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে তরুণদের সরব হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা
-
বিশ্লেষকদের মতে, Gen Z-র এই অবস্থান ভবিষ্যতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে
ওডিশায় বিতর্কের কেন্দ্রে বিজেপি সাংসদের কন্যা
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ভুবনেশ্বরের বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর মেয়ে অর্চিতা সচিন রাহার-এর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে একটি পোস্ট করেন। পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পরে বিজেপির একাংশের সমালোচনার মুখে পড়লেও তিনি তা মুছে ফেলতে অস্বীকার করেন। তাঁর মন্তব্য ছিল, ‘Don’t bother, I won’t delete. অর্থাৎ অযথা মাথা ব্যথার দরকার নেই, আমি ডিলিট করব না।’
পরে অপরাজিতা সারঙ্গীর দপ্তর জানায়, অর্চিতা একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক এবং নিজের মত প্রকাশের অধিকার তাঁর রয়েছে। এই ব্যাখ্যাও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলেছে।
বিজেপির জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ?
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি দেখিয়ে দিচ্ছে যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এখন শুধু বিরোধী রাজনীতির ইস্যু নয়। শাসক জোটের সমর্থক পরিবারগুলির তরুণ সদস্যরাও প্রকাশ্যে মত জানাতে শুরু করেছেন। ফলে ‘Gen Z’ আন্দোলন ভবিষ্যতে বিজেপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
FAQ
১. কেন Gen Z আন্দোলন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে?
NEET-UG প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে চলা ছাত্র আন্দোলনে শাসক জোট-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পরিবারের তরুণ সদস্যদের সমর্থনের দাবি সামনে আসায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
২. কোন রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের নাম উঠে এসেছে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসমের এক মন্ত্রীর কন্যা, ওডিশার বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর কন্যা এবং উত্তরপ্রদেশের এক প্রাক্তন বিজেপি বিধায়কের কন্যার নাম আলোচনায় এসেছে।
৩. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কী বলেছেন?
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত মতামতকে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিকের সরকারি বা রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয়।
৪. অর্চিতা সচিন রাহার পোস্ট নিয়ে বিতর্ক কেন?
তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে একটি পোস্ট করেন। পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনা হলেও তিনি সেটি মুছে ফেলতে অস্বীকার করেন।
৫. অপরাজিতা সারঙ্গীর দপ্তরের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
তাঁদের দপ্তর জানায়, অর্চিতা একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক এবং সংবিধান অনুযায়ী নিজের মত প্রকাশের অধিকার তাঁর রয়েছে।
৬. এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে কেন গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ইস্যুতে তরুণদের অবস্থান এখন দলীয় সমর্থনের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণেও পড়তে পারে।
৭. প্রতিবেদনে উল্লেখিত দাবিগুলি কি সরকারি ভাবে নিশ্চিত?
প্রতিবেদনের কিছু অংশ রাজনৈতিক সূত্র, ভাইরাল পোস্ট ও প্রকাশ্য মন্তব্যের ভিত্তিতে। সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলির ক্ষেত্রে সরকারি বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।