Purulia: মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে গিয়ে ১২ বছরের ‘অন্ধকার’ কাটল ১২ দিনেই, পুরুলিয়ার কৃষ্ণ বাউরি বললেন… | Purulia Family Gets Electricity After 12 Year Wait, CM Suvendu Adhikari’s Janatar Darbar Resolves Issue in Just 12 Days
আবেদনের ১২ বছর পর পুরুলিয়ার এক পরিবার পেল বিদ্যুৎ সংযোগImage Credit: TV9 Bangla
পুরুলিয়া: ১২ বছর আগে বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু, আলো জ্বলেনি বাড়িতে। সেই সমস্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে পৌঁছাতেই ১২ বছরের ঘুটঘুটে অন্ধকার কাটল মাত্র ১২ দিনে। বাড়িতে বিদ্যুতের আলো পৌঁছতেই কেঁদে ফেললেন পুরুলিয়ার পুঞ্চা থানার লৌলাড়া গ্রামের সাইকেল মিস্ত্রি কৃষ্ণ বাউরি। চোখে জল এল তাঁর স্ত্রীরও।
লৌলাড়া গ্রামে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন কৃষ্ণ বাউরি। তাঁদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ১২ বছর আগে আবেদন করেছিলেন কৃষ্ণ বাউরি। কিন্তু, পাশের বাড়ির সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বিদ্যুৎ পৌঁছয়নি তাঁর পরিবারে। যদিও কৃষ্ণর অভিযোগ, জোর করে তাঁদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ করতে দেয়নি কয়েক জন প্রতিবেশী। আগের সরকারের সময়ে বারে বারে বিষয়টি জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী শুরু করেন জনতার দরবার। কৃষ্ণ বাউরি জানান, তাঁর মেয়ে এবং তাঁর স্ত্রী গত ১৩ জুলাই কলকাতার সল্টলেকে জনতার দরবারে পৌঁছান। সেখানে জনতার দরবারে তাঁদের সমস্যা নথিভুক্ত করেন। যদিও সেদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়নি। তবে সেখানে থাকা আধিকারিকেরা পুঞ্চা থানায় যোগাযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন। পুঞ্চা থানার পুলিশ, পুঞ্চা ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক এবং স্টেশন ম্যানেজারের তত্বাবধানে বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়।
বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে হিয়ারিং হয়। সেখানে সমস্ত কিছু বিবেচনার পর, আধিকারিকেরা ওই পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা জানান। এরপরই শুক্রবার বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে কৃষ্ণ বাউরি এবং তাঁর পরিবার মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।
কৃষ্ণ বাউরি বলেন, “আমরা ভাবতেই পারিনি মাত্র ১২ দিনে আমাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ চলে আসবে। সব বাড়িতে যখন আলো জ্বলত, তখন আমাদের বাড়িতে অন্ধকারে স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে বসে থাকত।” বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন তিনি। কৃষ্ণ বাউরির স্ত্রী কল্পনা বাউরি বলেন, “হ্যারিকেন, লম্ফর আলোয় রাতে থাকতে হত। দিনের বেলা রাতের জন্য রান্না করে নিতাম। আমাদের এক ছেলে, এক মেয়ে। মেয়ে নার্সিং পড়েছে। তবে রাতে পড়াশোনায় খুব কষ্ট হত। ছেলে গত বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফেল করেছিল। এবার বিদ্যুৎ আসার পর বলছে, আবার মাধ্যমিক দেবে। মুখ্য়মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।”