Dilip Ghosh: ভিন রাজ্যে আলু পাঠানো নিয়ে বড় বার্তা দিলীপের, চাষিদের ভাগ্য ফিরবে? | West Bengal Eyes Subsidy to Send Surplus Potatoes Outside State, Says Dilip Ghosh
হুগলি: ভিন রাজ্যে পাঠাতে পারেননি। আবার এ রাজ্যেও এ বছর আলু দাম ছিল কম। তাই, আলু চাষিরা এবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। আলু চাষিদের জন্য একাধিক পদক্ষেপ করছে রাজ্যের নতুন সরকার। এবার হুগলিতে এসে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানালেন, রাজ্যের উদ্বৃত্ত আলু বাইরে পাঠাতে ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। ধীরে হলেও পঞ্চায়েতের কাজ গতি পাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন চুঁচুড়া রবীন্দ্র ভবনে হুগলি জেলার পঞ্চায়েতগুলিকে নিয়ে রিভিউ মিটিং করেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। ছিলেন পঞ্চায়েত সচিব পি উল্গানাথন, হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরী, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া ও দফতরের আধিকারিকরা। সেখানে দিলীপ ঘোষ বলেন, বিজেপি সরকার আসার পর বহু প্রকল্প শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে এবং পরে যে কাজ হয়েছে, সেই সব প্রকল্পের সার্ভে করা হচ্ছে। অনেক রকম সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। অন্নপূর্ণা যোজনায় অনেক নাম রেজিস্ট্রি হয়েছে। ভিবি জি রাম জি র নিয়ম বদল হয়েছে। পঞ্চায়েতের আইন সংশোধন হয়েছে। কাজ কতটা হচ্ছে সেটা নিয়ে রিভিউ মিটিং চলছে জেলায় জেলায়। হাওড়া এবং হুগলিতে মিটিং করেছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী।
হুগলি জেলার কাজ নিয়ে প্রশংসা করেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। তিনি জানান, পঞ্চায়েত এলাকায় রাস্তাঘাটের কাজ হবে। আবাস যোজনার ভুয়ো ২৫ লক্ষ নাম বাদ যাবে। ভোটার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করে ২৫ লক্ষ জব কার্ড নতুন করে সংযোজন হবে। সার্ভে এবং চেকিং একসঙ্গে চলবে। তাঁর কথায়, “সরকারি যে জনকল্যাণ শিবির করা হয়েছিল, সেখানে বহু মানুষ এসেছিলেন। কোনও মানুষ যাতে বঞ্চিত না হয়, সেটাও দেখা হচ্ছে। দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে। সেটা অডিট করানো হচ্ছে। সরকারি তরফে সমস্তরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেখানে যেখানে অভিযোগ রয়েছে, চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও তিন বছরের বেশি যাঁরা রয়েছেন, তাঁদেরও ট্রান্সফার করা হয়েছে।”
পঞ্চায়েতে দুর্নীতি নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার-সহ সচিবদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। সে প্রশ্নে দিলীপ ঘোষ বলেন, আগের কিছু টেন্ডার ও কাজ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। রিভিউ হচ্ছে। টেন্ডার ছাড়াই বেনিয়মে কাজ হয়ে গিয়েছে। তার টাকা এদিক-ওদিক হয়েছে। ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে কিন্তু রাস্তাই হয়নি, এমনও অভিযোগ উঠেছে।
আলুর দাম নিয়ে বার্তা দিলীপের-
আলু নিয়ে কৃষকরা চিন্তিত। একশো থেকে দেড়শ টাকা বস্তা দরে আলু বিক্রি হচ্ছে বর্তমানে। সেই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গত কয়েক বছর ধরে আলু বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। বাজার নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উদ্বৃত্ত হয়েছে এ রাজ্যে। এটা বাইরে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। অর্থ দফতরে আমি তিনবার ফাইল পাঠিয়েছি। অর্থ দফতর বাজেটে ঘোষণা করেছিল, চাষির কাছ থেকে আলু সংগ্রহ করার জন্য ভর্তুকি দেওয়া হবে। আমরা চাইছি, হিমঘর মালিক ও ব্যবসায়ীদের যাঁরা ভিন রাজ্যে আলু পাঠান, তাঁদের ভর্তুকি দেওয়ার। কৃষি বিপণন দফতর থেকে সামান্য ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।”