বর্ষায় কেন বাড়ে আই ফ্লুর সংক্রমণ? কী ভাবে নিজেকে সুস্থ রাখবেন?
বর্ষাকালে আই ফ্লু বা কনজাঙ্কটিভাইটিস কেন বেশি ছড়ায়?
বর্ষায় আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সহজে ছড়ায়, ফলে আই ফ্লু বা কনজাঙ্কটিভাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত হাত ধোওয়া, চোখে হাত না দেওয়া, ব্যক্তিগত তোয়ালে ব্যবহার, কনট্যাক্ট লেন্স সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।
যা যা জানবেন
-
কনজাঙ্কটিভাইটিস বা আই ফ্লু কী এবং কেন হয়?
-
বর্ষাকালে কেন চোখের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়?
-
আই ফ্লুর সাধারণ লক্ষণগুলি কী কী?
-
সংক্রমণ এড়াতে কী কী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি?
-
কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা কী?
বর্ষায় বিভিন্ন সংক্রমক রোগের ঝুঁকি বাড়ে, এই কথা মোটামুটি সকলের জানা। ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া থেকে সর্দি-কাশি বা ভাইরাল সংক্রমণ। তবে তারই সঙ্গে কিন্তু এই সময় বাড়তে থাকে চোখের সংক্রমণের ঝুঁকিও। বিশেষ করে কনজানটিভাইটিস বা আই ফ্লু-এর প্রকোপ বর্ষাকালে অনেক বেশি দেখা যায়। লাল চোখ, চোখ দিয়ে জল পড়া, চুলকানি ও জ্বালাপোড়ার সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে উত্তরোত্তর।
কনজাঙ্কটিভাইটিস আসলে কী?
কনজাঙ্কটিভাইটিস হলো চোখের সাদা অংশ এবং চোখের পাতার ভিতরের পাতলা আবরণে হওয়া প্রদাহ। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অ্যালার্জির কারণে এই সংক্রমণ হতে পারে। এর ফলে চোখ লাল হয়ে যায়, জল পড়ে, জ্বালাপোড়া হয় এবং অনেক সময় আঠালো স্রাবও বের হতে পারে। বিশেষ করে শিশুরা বার বার চোখে হাত দেওয়ার কারণে সহজেই এই সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে।
কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?
-
চোখ লাল হয়ে যাওয়া
-
অতিরিক্ত জল পড়া
-
চুলকানি ও জ্বালাপোড়া
-
চোখে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি
-
চোখের পাতা ফুলে যাওয়া
-
আঠালো স্রাব নির্গত হওয়া
-
আলোতে অস্বস্তি
বর্ষায় কেন বাড়ে আই ফ্লুর সংক্রমণ?
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। এছাড়া বৃষ্টির জল, ধুলো, দূষণ এবং ভিড় জায়গায় মানুষের সংস্পর্শে আসার কারণে এই সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
আই ফ্লু অত্যন্ত সংক্রামক। তাই বাড়ি, স্কুল, অফিস বা গণপরিবহনের মতো জায়গায় একজন আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
কী ভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাত পরিষ্কার রাখা। সারাদিনে অজান্তেই আমরা বহুবার চোখে বা মুখে হাত দিই। তাই সাবান ও জল দিয়ে নিয়মিত হাত ধোওয়া এবং অপ্রয়োজনে চোখে হাত না দেওয়াই সংক্রমণ প্রতিরোধের প্রথম ধাপ।
আই ফ্লু হলে কী করবেন, কী করবেন না?
চোখে ফোলা, লাল ভাব বা জ্বালাপোড়া হলে পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে চোখের উপর কয়েক মিনিট রাখলে কিছুটা আরাম পাওয়া যায়। তবে ব্যবহৃত তোয়ালে বা কাপড় অবশ্যই নিয়মিত ধুতে হবে এবং কারও সঙ্গে ভাগ করে ব্যবহার করা যাবে না।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পুরোনো আই মেকআপ ব্যবহার করা উচিত নয়। মাসকারা, আইলাইনার বা আইশ্যাডোতে ব্যাকটেরিয়া জমে থাকতে পারে, যা পুনরায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সুস্থ হওয়ার পর নতুন প্রসাধনী ব্যবহার করাই নিরাপদ।
এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছামতো অ্যান্টিবায়োটিক আই ড্রপ ব্যবহার করবেন না। সব আই ফ্লু ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয় না। ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নাও হতে পারে।
কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা
যাঁরা কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তাঁদের আই ফ্লু হলে সঙ্গে সঙ্গে লেন্স ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। সংক্রমণের সময় লেন্স পরলে চোখের জ্বালা বেড়ে যেতে পারে এবং সুস্থ হতে বেশি সময় লাগতে পারে। সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চশমা ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
সংক্রমণ যাতে অন্যদের মধ্যে না ছড়ায়, সেজন্য ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, তোয়ালে বা রুমাল ভাগ করে ব্যবহার না করা এবং আক্রান্ত অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে আই ফ্লু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। চোখে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলেই অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা করান।
FAQ
বর্ষাকালে আই ফ্লু কেন বেশি হয়?
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়ায়। পাশাপাশি ভিড়, দূষণ ও সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শেও আই ফ্লুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
আই ফ্লুর প্রধান লক্ষণ কী?
চোখ লাল হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত জল পড়া, চুলকানি, জ্বালাপোড়া, চোখে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, চোখের পাতা ফোলা, আঠালো স্রাব এবং আলোতে অস্বস্তি আই ফ্লুর সাধারণ লক্ষণ।
আই ফ্লু হলে কী করা উচিত?
চোখ পরিষ্কার রাখা, ঠান্ডা জলে ভেজানো পরিষ্কার কাপড় দিয়ে সেঁক দেওয়া, আলাদা তোয়ালে ব্যবহার করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
আই ফ্লু হলে কি কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করা যাবে?
না। সংক্রমণের সময় কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার বন্ধ রাখা উচিত। সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চশমা ব্যবহার করাই নিরাপদ।
আই ফ্লু হলে কি নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক আই ড্রপ ব্যবহার করা উচিত?
না। সব ধরনের আই ফ্লু ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয় না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক আই ড্রপ ব্যবহার করা উচিত নয়।