ভরা বর্ষায় কংসাবতীর বুক চিরে উঠছে বালি, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা
এই সময়, পুরুলিয়া: নদীর বুক চিরে দু’পারের গ্রামের মানুষের যাতায়াতের পথ থেকে কেন বালি তোলা হচ্ছে, সেই প্রশ্নে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। এই ঘটনা কংসাবতী নদীর কাঁটাবেড়া ঘাটের। বুধবার এই ঘাটে স্থানীয়দের প্রতিবাদের একটি ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি ‘এই সময়’) ছড়িয়েছে সর্বত্র।
জানা গিয়েছে, নদীর মাঝে কিছু অংশ থেকে যন্ত্র দিয়ে বালি তোলা নিয়ে সরব নদীর দুই পারের কাঁটাবেড়া, সিন্দরি, পটমপুটরা, বামুনডিহা, তুম্বা ঝালদা, বিলচারি–সহ একাধিক গ্রামের মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, ঘাট থেকে বালি তোলার ছাড়পত্র পাওয়া ইজারাদারের তরফে পুলিশ প্রতিবাদী মহিলাদের হটিয়ে দিতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশের সামনে শুরু হয় বিক্ষোভ।
প্রতিবাদীদের বক্তব্য, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাটে সেতু গড়ার দাবি তুললেও তা মানা হয়নি। চাষ ছাড়াও কাজের জন্য প্রত্যেক দিন নদীর উপর দিয়ে দুই পারের গ্রামগুলির মানুষ যাতায়াত করেন। নদীর দুই পাড়ে দু’দিক থেকে দু’টি রাস্তা নদীর কিনারা পর্যন্ত রয়েছে। নদীর বুকে নির্দিষ্ট জায়গা দিয়েই জল ভেঙে দীর্ঘদিন ধরেই মানুষ যাতায়াত করেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীর বুক চিরে যাতায়াতের সেই অংশ থেকেই যন্ত্র দিয়ে বালি তুলে নেওয়ায় গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। কার্যত তা মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দাদের প্রশ্ন, ভরা বর্ষায় কী ভাবে নদীর বুক থেকে বালি তোলা যায়? নদীর মাঝে একটি অংশ থেকে বালি তোলায় যে গর্ত তৈরি হয়েছে, তা ভরাট হবে কী ভাবে? কাঁটাবেড়া গ্রামের বাসিন্দা অসিত মাহাতো বলেন, ‘এখন বর্ষা। অন্য সময়ে নদী শুকনো থাকলে না–হয় বড় গর্ত চোখে পড়বে। কিন্তু বর্ষায় সেটা সম্ভব নয়। যাতায়াতের পথ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।’ বামুনডিহা গ্রামের দেবীলাল মাহাতো বলেন, ‘এই ঘাটেরই অন্য অংশ থেকেও তো এত দিন যন্ত্র দিয়েই বালি তোলা হচ্ছে। কিন্তু নদীর বুকে যাতায়াতের পথ থেকে বালি তুলে নেওয়ায় গর্ত তৈরি হওয়ায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।’ গাড়াফুসড় গ্রামের বাসিন্দা এলাকার বিজেপি নেতা রাজীব মাহাতোর কথায়, ‘এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষোভের কারণ সঙ্গত।’
আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত মাহাতোর বক্তব্য, ‘আমরা প্রতিবাদীদের পাশে রয়েছি। বালি তোলার জন্য মানুষের জীবন–জীবিকা বিপন্ন হতে পারে না। আমিও সেখানে যাব। প্রয়োজনে আন্দোলন হবে।’
জেলা মাইনস অ্যান্ড মিনারেলস দপ্তর জানিয়েছে, নদীর কোন অংশ থেকে বালি তোলা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা দেখা হবে।