দুধ খাঁটি নাকি ভেজাল? বাড়িতেই জেনে নিন ৫ সহজ পরীক্ষায়
Health Tips: দুধকে সম্পূর্ণ পুষ্টিকর খাবার বলা হয়। শিশুদের বেড়ে ওঠা, হাড়ের স্বাস্থ্য, পেশির গঠন থেকে শুরু করে শরীরের নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে দুধের ভূমিকা…
Health Tips: দুধকে সম্পূর্ণ পুষ্টিকর খাবার বলা হয়। শিশুদের বেড়ে ওঠা, হাড়ের স্বাস্থ্য, পেশির গঠন থেকে শুরু করে শরীরের নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে দুধের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে দুধে জল, স্টার্চ, ডিটারজেন্ট, ইউরিয়া-সহ বিভিন্ন ভেজাল মেশানোর অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। দীর্ঘদিন ভেজাল দুধ খেলে হজমের সমস্যা, কিডনি ও লিভারের ক্ষতি-সহ একাধিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করানোই ভেজাল দুধ শনাক্ত করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। তবে বাড়িতেও কয়েকটি সহজ পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে দুধের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
১. কাচ বা টাইলসের উপর ফোঁটা ফেলে দেখুন
একটি পরিষ্কার কাচ বা মসৃণ টাইলসের উপর কয়েক ফোঁটা দুধ ফেলুন।
• যদি দুধ ধীরে ধীরে গড়িয়ে যায় এবং পিছনে সাদা দাগ রেখে যায়, তবে সেটি তুলনামূলকভাবে খাঁটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
• আর যদি জলের মতো দ্রুত নেমে যায় এবং কোনও দাগ না থাকে, তাহলে অতিরিক্ত জল মেশানো থাকতে পারে।
মনে রাখবেন: এটি কেবল প্রাথমিক ধারণা দেয়, নিশ্চিত প্রমাণ নয়।
২. ঝাঁকিয়ে ফেনা পরীক্ষা করুন
একটি বোতলে দুধ নিয়ে ভালোভাবে ঝাঁকান।
• স্বাভাবিক দুধে কিছু ফেনা হলেও তা দ্রুত মিলিয়ে যায়।
• কিন্তু অস্বাভাবিকভাবে বেশি ফেনা তৈরি হয়ে দীর্ঘক্ষণ থাকলে ডিটারজেন্ট মেশানো থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
৩. গন্ধ ও স্বাদ খেয়াল করুন
দুধে যদি-
• সাবানের মতো গন্ধ,
• অস্বাভাবিক স্বাদ,
• বা কৃত্রিম অনুভূতি থাকে,
তাহলে সেই দুধ ব্যবহার না করাই ভালো।
৪. আইডিন দিয়ে স্টার্চ পরীক্ষা
বাড়িতে আইডিন সলিউশন থাকলে অল্প দুধে কয়েক ফোঁটা আইডিন মেশান।
• যদি দুধের রং নীলচে হয়ে যায়, তাহলে স্টার্চ মেশানো থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
৫. স্বাভাবিকভাবে নষ্ট হচ্ছে কি না দেখুন
খাঁটি দুধ সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের পর টক হয়ে যায় বা নষ্ট হতে শুরু করে।
যদি দীর্ঘ সময় বাইরে রাখার পরও দুধের স্বাভাবিক পরিবর্তন না হয়, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত। তবে শুধুমাত্র এই পরীক্ষার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
ভেজাল দুধ খেলে কী হতে পারে?
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ভেজাল দুধ খেলে দেখা দিতে পারে
• হজমের সমস্যা
• পেটব্যথা
• বমি বা বমি বমি ভাব
• ডায়রিয়া
• অ্যালার্জি
• কিডনির ক্ষতি
• লিভারের সমস্যা
বিশেষ করে ইউরিয়া বা ডিটারজেন্ট মেশানো দুধ শিশু, বয়স্ক এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য আরও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।
কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ,
• বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড বা নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে দুধ কিনুন।
• প্যাকেটজাত দুধ কিনলে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ ও সিল পরীক্ষা করুন।
• খোলা দুধ কিনলে উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হন।
• সন্দেহ হলে বাড়িতে প্রাথমিক পরীক্ষা করুন।
• নিশ্চিত হতে হলে স্বীকৃত পরীক্ষাগারে দুধ পরীক্ষা করান।
শুধু পুষ্টিকর হলেই হবে না, নিরাপদও হতে হবে
দুধ প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই শুধু পুষ্টিগুণ নয়, দুধটি ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ কি না, সেটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। সামান্য সচেতনতা এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে দুধ কেনার অভ্যাসই পরিবারকে ভেজাল দুধের ঝুঁকি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখতে পারে।
(এই পরীক্ষাগুলি শুধুমাত্র প্রাথমিক ধারণা দেয়। কোনও পরীক্ষাতেই ভেজাল নিশ্চিতভাবে প্রমাণ বা অস্বীকার করা যায় না। সন্দেহ হলে স্বীকৃত খাদ্য পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।)
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা