Sonam Wangchuk Update: সোনমকে হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্তে কোনও ভুল নেই সরকারের, জানিয়ে দিল দিল্লি হাইকোর্ট | Delhi High Court Backs Government’s Decision to Shift Sonam Wangchuk to Safdarjung Hospital, Rejects Detention Claim
নয়া দিল্লি: সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার সরকারি সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিল দিল্লি হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালতের নির্দেশ, চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে হবে সোনমকে (Sonam Wangchuk)। যন্তর-মন্তরের পর হাসপাতালেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। শনিবার তাঁকে যন্তর-মন্তর থেকে হাসপাতালে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু, মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়,কোনওরকম চিকিৎসা নিতে চাইছেন না সোনম। তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার জন্য দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছিল সোনমের স্ত্রী। কিন্তু, আদালত জানিয়েছে, ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে সরকার যে পদক্ষেপ করেছে, তা কোনওভাবেই স্বেচ্ছাচারী বলা যায় না। বরং সোনমের শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সোনমের স্ত্রীর মামলা
সোনমকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। তাঁর অভিযোগ, ওয়াংচুককে বেআইনিভআবে আটক করে রাখা হয়েছে। দাবি তোলেন, একজন নাগরিক হিসেবে নিজের পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর অধিকার রয়েছে ওয়াংচুকের। যদিও, স্ত্রীর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। তবে এই পর্যায়ে আদালত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি। কেন্দ্র, দিল্লি পুলিশ ও সফদরজং হাসপাতাল-সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে তিন দিনের মধ্যে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বৃহস্পতিবার।
আর কী জানিয়েছে আদালত?
শুনানিতে আদালত জানায়, প্রায় ১৭-১৮ দিন ধরে অনশনে থাকার ফলে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। রক্তে শর্করা ও পটাশিয়ামের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে কমে গিয়েছিল বলেও মেডিক্যাল রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে যন্তর-মন্তর থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে কোনও ভুল ছিল না বলেই মত আদালতের।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, “সরকার তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই এই পদক্ষেপকে স্বেচ্ছাচারী বলা যায় না।” আদালত আরও জানায়, প্রতিটি মানুষের জীবন মূল্যবান এবং তা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।
‘ওয়াংচুকের সম্মতি নিয়েই চিকিৎসা’
শুনানিতে ওয়াংচুকের আইনজীবী কপিল সিব্বল প্রশ্ন তোলেন, কোনও আটকাদেশ বা ফৌজদারি মামলা ছাড়াই একজন নাগরিককে সরকারি হাসপাতালে থাকতে বাধ্য করা যায় কি না। তিনি দাবি করেন, ওয়াংচুকের নিজের পছন্দের চিকিৎসক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে দিল্লি হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, “মি.ওয়াংচুক আটক নন। তিনি স্বাধীন নাগরিক।” বডি অটোনমি লঙ্ঘনের অভিযোগও খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বিচারপতিরা বলেন, সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ওয়াংচুকের সম্মতি নিয়েই চিকিৎসা করেছেন। জোর করে কোনও চিকিৎসা করা হয়নি। আদালত আরও জানায়, সাধারণ রোগীদের তুলনায় ওয়াংচুকের পরিবারের সদস্যদের অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো যে কোনও সময় দেখা করতে পারছেন। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।