ইডেনে দাঙ্গা, খেলা বন্ধ, ময়দানে পথ হারান পেসার— কলকাতায় স্যর গ্যারির সবচেয়ে রোমহর্ষক দিন
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস। আর সেখান থেকেই শুরু হয় বিস্ফোরণ। আহত দর্শকদের দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়ে জনতা। মুহূর্তের মধ্যে ইডেন যেন ক্রিকেট মাঠ থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের দিকে উড়ে আসে ইট, পাথর, জুতো। তার পর জ্বলে ওঠে মাঠের ছাউনি। চারদিকে শুধু ধোঁয়া, আগুন আর আতঙ্ক।
প্রাণ বাঁচাতে দৌড় ক্রিকেটারদের
মাঠের পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়। আতঙ্কিত ক্রিকেটাররা মাঠ ছেড়ে ছুটে পালান। বেশির ভাগই আশ্রয় নেন মোহনবাগান (Mohun Bagan) ক্লাবে। সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা ঘটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের পেসার চার্লি গ্রিফিথের (Charlie Griffith) সঙ্গে। দিশেহারা হয়ে তিনি ভুল পথে দৌড়ে ময়দান চষে বেড়ান। শেষ পর্যন্ত প্রায় হাঁপাতে হাঁপাতে হোটেলে পৌঁছন। পরে সেই ঘটনার কথা বহু বছর ধরে ক্রিকেটমহলে গল্প হয়ে ঘুরেছে।
মাঠে নামতে রাজি ছিলেন না সোবার্স
অশান্তির জেরে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্রামের দিন পেরিয়ে গেলেও মাঠে ফিরতে চাননি ওয়েস্ট ইন্ডিজ় অধিনায়ক সোবার্স। তাঁর আশঙ্কা ছিল, আবার কোনও বিপদ ঘটতে পারে। ভারত অধিনায়ক নবাব পতৌদি (Nawab of Pataudi), তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পিসি সেন (P.C. Sen) থেকে শুরু করে বোর্ড কর্তারা বারবার অনুরোধ করেন। নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সোবার্স অনড়।