গুজরাটের অপহৃত হীরে ব্যাবসায়ীকে ফেরাতে ৪ মিলিয়ন ইউরো মোদী সরকারের! ফের সরব বিরোধীরা
সুরাট: উৎকণ্ঠা আর অপেক্ষার দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল।(Dhiru Ramani) সুরাটের বিখ্যাত হীরা ব্যবসায়ী, ৭৫ বছর বয়সী ধীরু রামানি অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে…
সুরাট: উৎকণ্ঠা আর অপেক্ষার দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল।(Dhiru Ramani) সুরাটের বিখ্যাত হীরা ব্যবসায়ী, ৭৫ বছর বয়সী ধীরু রামানি অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট একটি চরমপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি থাকার পর দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে তাঁকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
ধীরু রামানি সুরাটের হীরা ব্যবসার এক প্রবাদপুরুষ। দশকের পর দশক ধরে তিনি আন্তর্জাতিক বাজারে হীরা বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে তাঁর ব্যবসায়িক যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্র ধরেই তিনি মালিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে অপ্রত্যাশিতভাবে তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায় আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট একটি চরমপন্থী গোষ্ঠী। অপহরণকারীরা প্রথমে মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করে ১০০ কোটি টাকা।
আরও দেখুনঃ নাম ভাঁড়িয়ে দেশে সন্ত্রাস ছড়ানোর চেষ্টা! মোদী রাজ্য থেকে ফের গ্রেফতার জৈশ র ৫
এই বিপুল অঙ্ক শুনে রামানি পরিবার ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ বেড়ে যায়।দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা জটিল আলোচনার পর অবশেষে সমঝোতা হয়। জঙ্গি গোষ্ঠীকে চার মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৪৪ কোটি টাকা) দিয়ে ধীরু রামানিকে মুক্ত করা হয়। এই টাকা কীভাবে দেওয়া হয়েছে বা কোন মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ভারত সরকার, গুজরাট সরকার এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মালির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়েছিল।ধীরু রামানি মুক্তির পর প্রথম কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তিনি জানান, “আমি ঠিক আছি। বাড়ি ফিরতে চাই।”
আরও দেখুনঃ ধোঁয়া নেই, শব্দও কম: ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন উদ্বোধ করলেন প্রধানমন্ত্রী
সুরাটে তাঁর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও ব্যবসায়িক সহকর্মীরা এখন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। তবে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এত টাকা খরচ করে ধীরু রামানিকে ছাড়িয়ে আনার খবরে রীতিমত খাপ্পা রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাদের মতে বিজেপি সবসমই পুঁজিপতিদের স্বার্থে কাজ করে। কখনও আদানির মামলা মেটানোর খরচ বহন করে আবার কখনও ৪ মিলিয়ন মুক্তিপণ দিয়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। কিন্তু দেশের গরিব মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার ভারতীয় ব্যবসায়ী বাণিজ্য করেন। বিশেষ করে হীরা, সোনা ও অন্যান্য খনিজ সম্পদের ব্যবসায় তাঁদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। কিন্তু সেখানকার অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জঙ্গি তৎপরতা প্রায়ই ঝুঁকি তৈরি করে। মালিতে আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা দীর্ঘদিনের। তারা বিদেশি নাগরিকদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়কে একটি আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করে।গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এই মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
আরও দেখুনঃ ISI-মনমোহন সরকারের ফিক্সড ম্যাচ ২৬/১১! স্বীকারোক্তি কংগ্রেস সরকারের আমলার