"সিএফএল কি আদৌ পেশাদার লিগ?" বিষ্ফোরক ব্যারেটো - 24 Ghanta Bangla News
Home

“সিএফএল কি আদৌ পেশাদার লিগ?” বিষ্ফোরক ব্যারেটো

Spread the love

কলকাতা লিগে তিন প্রধানের বাড়তি সুবিধার অভিযোগ তুলে আইএফএ-র ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুললেন জর্জ টেলিগ্রাফের কোচ হোসে ব্যারেটো।

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের কাঠামো ও পরিচালনা নিয়ে এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন জর্জ টেলিগ্রাফের প্রধান কোচ হোসে ব়্যামিরেজ ব্যারেটো (José Barreto)। তাঁর অভিযোগ, প্রতিযোগিতায় তিন প্রধান মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডান স্পোর্টিং, অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছে, আর সেই কারণে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যান্য ক্লাব। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার জন্য তিনি সরাসরি ভারতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ব্যারেটোর মতে, কলকাতা লিগ এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে যেখানে ছোট ক্লাবগুলোর চাহিদা বা সমস্যার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। লিগের সূচি প্রকাশ থেকে শুরু করে ম্যাচ আয়োজন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই বড় ক্লাবগুলোর সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ফলে ছোট দলগুলোর পক্ষে সঠিক পরিকল্পনা করা, ফুটবলারদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করা কিংবা ম্যাচভিত্তিক প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে।

Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক বার্তায় ব্যারেটো জানান, লিগ শুরু হতে দেরি হওয়ায় এখন অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা শেষ করার চেষ্টা চলছে। এর ফলে একটি ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ম্যাচ কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা আগেভাগে নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে না। এমন অনিশ্চিত সূচির কারণে কোচিং স্টাফ ও ফুটবলারদের পক্ষে অনুশীলনের পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রামও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, যা দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের পারফরম্যান্স ও শারীরিক সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Also Read | চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ঝড় তুললেন এমবাপে, ভাইরাল গতির ভিডিও

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি গ্রুপ থেকে তিনটি করে দল পরবর্তী পর্বে ওঠে, তাহলে তিন প্রধানের অধিকাংশ ম্যাচ কেন নিজেদের মাঠেই আয়োজন করা হচ্ছে? ব্যারেটোর মতে, এতে প্রতিযোগিতার সমতা নষ্ট হচ্ছে এবং অন্য দলগুলো সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একটি পেশাদার লিগে সব দলের জন্য সমান পরিবেশ ও সুযোগ থাকা জরুরি বলেও তিনি মনে করেন।

ব্যারেটো বলেন, এই বৈষম্যের প্রভাব শুধু বড় ও ছোট ক্লাবের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ নয়। তৃতীয় ডিভিশন বা অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলোর ফুটবলারদের নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করার সুযোগও কমে যাচ্ছে। শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় অনেক ছোট দল বড় ক্লাবগুলোর কাছে তিন, চার বা পাঁচ গোলের ব্যবধানে হেরে যাচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের একপেশে ফলাফল শুধু ক্লাবগুলোর জন্য নয়, ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাসের জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর।

সবশেষে ব্যারেটো প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কলকাতা প্রিমিয়ার লিগকে আদৌ কতটা পেশাদার প্রতিযোগিতা বলা যায়। তাঁর দাবি, শুধু বড় ক্লাবগুলোর স্বার্থ নয়, ছোট ক্লাবগুলোর মতামত ও প্রয়োজনকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। লিগ পরিচালনার ক্ষেত্রে সব অংশগ্রহণকারী ক্লাবের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে প্রতিযোগিতা আরও স্বচ্ছ, ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, কলকাতা লিগের উন্নতির স্বার্থে এখনই প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *