‘পরমহংস’-র প্রকৃত অর্থ শ্রীরামকৃষ্ণ পেয়েছিলেন ত্রৈলঙ্গস্বামীর কাছে
এ বার ত্রৈলঙ্গস্বামীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য মণিকর্ণিকা ঘাটে এসে পৌঁছলেন তিনি। সেই সময়ে ত্রৈলঙ্গস্বামী মৌনব্রত পালন করছেন। তপ্ত বালির উপর চিৎ হয়ে শুয়েছিলেন ত্রৈলঙ্গস্বামী। রোদে বালি এতটাই তেতে আছে যে, সেখানে পা দেয় সাধ্যি কার। রামকৃষ্ণকে দেখে উঠে বসলেন তিনি। ইশারায় বসতেও বললেন। কিন্তু মৌনী থাকায় কথা বললেন না। তা হলে উপায়? শেষে বাধ্য হয়ে ইশারার সাহায্য নিলেন দু’জনেই। শ্রীরামকৃষ্ণ সরাসরি প্রশ্ন করলেন, ‘ঈশ্বর এক নাকি অনেক?’ ত্রৈলঙ্গস্বামী ইশারায় বলতে চাইলেন, ‘তুমি নিজেই পরখ করে দেখে নিতে পারো। সমাধিস্থ হয়ে দেখ সবকিছুই এক ও অদ্বিতীয়। যতক্ষণ তা না করবে, ততক্ষণ আমি, তুমি, জীব, জগৎ প্রভৃতি জ্ঞান তোমাকে মোহের গভীরে আচ্ছন্ন করে রাখবে। মনে হবে ঈশ্বর অনেক।’ শ্রীরামকৃষ্ণ বুঝেছিলেন প্রকৃত ‘পরমহংস’ কাকে বলে।