Partha Chatterjee: ‘অভিষেককে তুলতেই শুভেন্দুকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি’, এবার কোন পথে পার্থ?

কলকাতা: একদা দলের নম্বর টু ছিলেন। কিন্তু দুর্নীতিতে তাঁর নাম জড়ানো, জেল যাত্রা, জেল মুক্তির পর কয়েকশো মাইল দূরত্ব বেড়েছে দলের সঙ্গে। ছাব্বিশের নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর ভিতরের ফাটলগুলো আরও বেশি সামনে তুলে এনেছেন তিনিই। আবারও বিস্ফোরক প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। TV 9 বাংলা এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন, “মমতা সব কিছুই জানতেন । সব কিছু হতে দিয়েছেন।” তাঁর আরও মন্তব্য, “অভিষেককে তুলতে যে একটা সময়ে শুভেন্দু অধিকারীকেও যথা যোগ্য সম্মান দেওয়া হয়নি।”
তৃণমূল এখন ছন্নছাড়া। যাঁরা মমতা-সঙ্গ ছাড়ছেন, তাঁরাই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি। আর তাতে সর্বশেষ সংযোজন মদন মিত্র। তিনিও অভিষেকের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। ফেসবুক লাইভে এসে তা নিয়ে মুখও খুলেছেন মমতা। তাঁর কাছে অভিষেক এখনও ‘বাঘ’। “অভিষেক অনেক খারাপ আপনাদের কাছে। ওটা বাহানা হয়ে গিয়েছে। অভিষেকের বৌ যদি দেড় বছরের বাচ্চাকে নিয়ে সিবিআই অফিসে যেতে পারে… একটু সেটিং করে নিলে সবচেয়ে রিলিফ হতে পারত। আপনারা বাহানা দেখিয়ে বলছেন, অভিষেক আপনাদের আয়না, তাই আপনারা চলে যাচ্ছেন। এটা আপনাদের বাহানা। যদি আপনাদের চোখে ও (অভিষেক) কোনও অন্যায় করে থাকে, অভিষেকের সব অন্যায় ক্ষমা হয়ে গিয়েছে। সে আজ লড়ে যাচ্ছে বাঘের মতো।”
সে প্রসঙ্গে পার্থ বললেন, “যাঁরা দল ছেড়ে যাচ্ছেন, তাঁরা সবাই বেইমান আমি মনে করি না । এত কিছুর পরও অভিষেককে মমতা বলছে বাঘ। তাহলে বাকিরা কী? বেড়াল? তাহলে বলতে হয় , বাঘের অত্যাচারে বেড়ালরা চলে গেল।” পার্থ বললেন, “যেদিন থেকে দিদি অভিষেককে তুলল, সেদিন থেকে তৃণমূলের পতন শুরু।”
তবে এই প্রথম নয়, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর এবং বিশেষ করে ২০২৬-এর মে মাসে দেওয়া বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ও চিঠিতে তিনি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একের পর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। পার্থর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই দলের সমস্ত দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন এবং আড়াল করেছেন। আজকের এই ভরাডুবির জন্য মমতা ও অভিষেক উভয়েই সমানভাবে দায়ী।” তিনি আরও যোগ করেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব গত কয়েক বছরে সাধারণ মানুষের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল এবং ৪ মে তারই প্রমাণ হাতেনাতে মিলেছে।
পার্থর বক্তব্য, “দলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান এবং আই-প্যাকের হস্তক্ষেপের পর থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হতে শুরু করে এবং দলের পতন শুরু হয়।” শিক্ষা দুর্নীতিতে তাঁর নাম জড়ানো, গ্রেফতারি, কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের যে অধ্যায় চলেছিল, তার নেপথ্যে কে ছিলেন, আসল মাথা কে? তা নিয়েও বিস্ফোরক পার্থ। তিনি বলেন, “শিক্ষা দুর্নীতি নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি করছি । তাহলেই সব বেরিয়ে যাবে । কে এসবের পেছনে…” পার্থর বিস্ফোরক মন্তব্য, “সেনাপতি কে আড়াল করতে আমাকে বলি দেওয়া হয়েছিল।” তিনি বললেন, “আমার জেল যাত্রার জন্য দায়ী মমতা-অভিষেক। টাকা কার সব প্রমাণিত হবে। ট্রায়ালে আছি। এখনই বলছি না । সব সামনে আসবে।”