kakali ghosh dastidar: ‘পৃথিবীর সকল শহিদদের সম্মানে’ এবার কাকলিরাও আলাদা ২১ জুলাই পালন করবে | NCPI Will celebrate another 21 july in dharmatala
কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সাংসদ, বারাসতImage Credit: Facebook
কলকাতা: এবার একটা নয়, একসঙ্গে চারটে একুশে জুলাই পালন হচ্ছে কলকাতায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা তো আলাদা-আলাদা তা পালন করছেই। এর মধ্যে আবার NCPI-ও একুশে জুলাইয়ে আলাদা স্মরণসভা করবে বলে জানা যাচ্ছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার তেমনই বললেন। অপরদিকে, আগে থেকেই কংগ্রেস শহিদ স্মরণ করে থাকে। ফলে, এবার তিলোত্তমা সাক্ষী থাকতে পারে চারটে শহিদ স্মরণের।
পালাবদলের পর থেকে তৃণমূল বিভক্ত সকলের জানা। মমতার হাত যেমন ছেড়েছেন তাঁর জয়ী বিধায়করা, ঠিক তেমনই সঙ্গ ছেড়েছেন রাজ্যসভা ও লোকসভার একাংশ সাংসদ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের শিবির ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে। আবার কালীঘাট শিবিরও বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের সামনে সভা করার অনুমতি পেয়েছে। সেখানে বক্তা খোদ সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিকে, এই সবের মধ্যে প্রশ্ন উঠছিল সুপ্রিমোর হাত ছেড়ে যে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে যে কুড়ি সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করে NCPI-তে যোগ দিয়েছিলেন, তারা কি আদৌ শহিদ দিবস পালন করবেন? করলেও কোথায় করবেন? নাকি ঋতব্রতদের বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে মিলে একুশে শহিদদের শ্রদ্ধা জানাবেন।
গত বছর পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্মতলা শহিদ সমাবেশে তাঁর মঞ্চ আলো করে থাকতেন এই কাকলী, দেব, রচনা, সুদীপ, সায়নী ঘোষরা। আসতেন বহু তৃণমূলপন্থী তারকাও। উপস্থিত থাকতেন ঋতব্রত-সন্দীপন-মদন-অনুব্রত-অরূপ-চন্দ্রিমা-ফিরহাদদের মতো নেতারা। এখন সব অতীত। সবাই আলাদা-আলাদ করে শহিদ দিবস পালনের তোড়জোড় শুরু করেছেন। এমতাবস্থায়, NCPI-দের ভূমিকা নিয়ে উঠছিল প্রশ্ন। এবার তারই জবাব দিলেন কাকলি।
সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “শহিদ কিন্তু সবার। যিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে শহিদ হয়েছেন তিনি শহিদ। আবার যিনি বাংলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রাণ দিয়েছেন তিনিও শহিদ। ফলে তাঁদের সম্মান জানানোটাই হল কাজ। বিশেষ করে যাঁরা রাজনীতি করেন তাঁদের তো বটেই। আর ঘটনাতো আমার চোখে সামনে ঘটেছিল। তাই শুধু আমার শহিদ তোমার শহিদ আজকে শহিদ মিনারের শহিদ নয় বা গান্ধীমূর্তির পাদদেশের শহিদ সেটা নয়। পৃথিবীর সকল শহিদদের সম্মান জানানো কর্তব্য বলে আমরা সেটা পালন করব।”
কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র আবার খোঁচা মেরে বলেন, “NCPI কী করবে? এই কুড়ি জন সাংসদ বাংলায় থাকবেন সেই দিন? আমি তাঁদের জিজ্ঞাসা করছি। নাকি তাঁরাও অনুমতি পেলে নতুন জায়গায় করবেন, কারণ সাংসদরা বলেছেন তাঁরা MLA-দের সঙ্গে নেই। NCPI তো ঋতব্রত গ্যাংয়ের অংশ নয়। তাহলে আরও একটা অনুমতি নিতে হবে। বাংলার মানুষ আজব সার্কাস দেখছেন। আমাদের অবস্থান একই। যেখানে ছিলাম সেইখানেই আছি।”