Calcutta High Court: ‘এত তাড়াহুড়ো করার কী ছিল?’ ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়ায় প্রশ্ন হাইকোর্টের | Calcutta High Court Questions Speaker’s Decision on Leader of Opposition Recognition
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাImage Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: বিধানসভার বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পাননি ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই স্বীকৃতি দিয়েছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু। তা নিয়েই মামলা গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। এবার অধ্যক্ষের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি শম্পা সরকার প্রশ্ন করেন, ‘অধ্যক্ষের এত তাড়াহুড়ো করার কী ছিল?’ একইসঙ্গে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিচারপতি বললেন, ‘অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের উপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিতে পারি।’
বিধানসভার বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি নিয়ে অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি নিয়ে অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছিল হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করার সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেননি বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। সিঙ্গল বেঞ্চের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন শোভনদেব। এদিন বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। মামলার শুনানিতে এদিন বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, “এই ধরনের বিতর্কে অন্য মামলা যখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, তখন অধ্যক্ষের এত তাড়াহুড়ো করার কী ছিল?” আগামিকাল ফের মামলার শুনানি হবে। তার আগে এদিন প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিচারপতি শম্পা সরকার জানান, “অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের উপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিতে পারি।”
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরই তৃণমূলে ডামাডোল শুরু হয়। ৮০টি আসনে জিতে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসেছে তৃণমূল। ফল ঘোষণার কয়েকদিন পরই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা করার কথা জানায় তারা। তারপরই শুরু হয় চাপানউতোর। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে তৃণমূলের বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগ উঠে। থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করে সিআইডি।
এরই মধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়করা একজোট হতে শুরু করেন। ৬০ জন বিধায়ক মিলে ‘নব তৃণমূল ব্লক’ গঠন করেন। আর সেই বিধায়করা বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিয়ে জানান, বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রতকে বেছে নিয়েছেন তাঁরা। এরপরই স্পিকার ঋতব্রতকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেন। আবার আসল তৃণমূল কারা, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে দুই শিবিরই। তারই মধ্যে হাইকোর্টে বিরোধী দলনেতা নিয়ে মামলা দায়ের করেছে কালীঘাট তৃণমূল।