Okra Benefits: নামেই ঢ্যাঁড়শ, কাজে নয়! খালি পেটে রোজ এভাবে ঢ্যাঁড়শ খেলে ওষুধ থেকে দূরে থাকবেন | Okra water health benefits diabetes weight loss
রান্নাঘরে ঢ্যাঁড়শ পরিচিত একটি সবজি। ভাজা, চচ্চড়ি কিংবা ডালের পাতে ঢ্যাঁড়শের কদর বরাবরই রয়েছে। তবে জানেন কি, ঢ্যাঁড়শ শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, এর ঔষধি গুণও অপরিসীম। বিশেষ করে, সকালবেলা খালি পেটে ঢ্যাঁড়শ ভেজানো জল খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে নানা মারণ রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। আজকাল পুষ্টিবিদ এবং চিকিৎসকেরাও সুস্থ থাকতে এই প্রাকৃতিক ‘ডিটক্স ড্রিংক’ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
পুষ্টিগুণে ভরপুর ঢ্যাঁড়শের জল আমাদের স্বাস্থ্যের কী কী উপকারে আসে?
১. ডায়াবেটিস বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে অব্যর্থ
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঢ্যাঁড়শের জল এক অলৌকিক ওষুধের মতো কাজ করে। ঢ্যাঁড়শের মধ্যে রয়েছে ‘মাইরিসেটিন’ (Myricetin) নামক উপাদান, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এর আঠালো ফাইবার বা আঁশ খাবার হজম হওয়ার প্রক্রিয়াকে ধীরগতির করে, যার ফলে রক্তে হঠাৎ করে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে (Spike) যায় না। নিয়মিত খালি পেটে এই জল খেলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে।
২. হৃদযন্ত্র ভালো রাখে ও কোলেস্টেরল কমায়
রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ঢ্যাঁড়শে থাকা ‘পেকটিন’ নামক এক ধরণের দ্রবণীয় ফাইবার শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) শোষণ করে তা মলত্যাগের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে। ফলে ধমনীতে চর্বি জমতে পারে না এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।
৩. কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমের সমস্যা দূর করে
যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation), গ্যাস বা অম্বলের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য ঢ্যাঁড়শের জল দারুণ উপকারী। এর ভেতরের পিচ্ছিল বা আঠালো উপাদানটি কোলন বা অন্ত্রের লুব্রিকেশন বাড়ায়। ফলে বাউল মুভমেন্ট পরিষ্কার হয় এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি মেলে।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়
ঢ্যাঁড়শ ভিটামিন সি (Vitamin C) এবং শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। এটি শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এতটাই শক্তিশালী করে তোলে যে মরশুমি সর্দি-কাশি বা ইনফেকশন সহজে ছুঁতে পারে না। পাশাপাশি, এতে থাকা ভিটামিন এ (Vitamin A) এবং বিটা-ক্যারোটিন চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।
৫. ওজন কমাতেও সহায়ক
যাঁরা মেদ ঝরানোর ডায়েট করছেন, তাঁরা সকালের তালিকায় এই জল রাখতে পারেন। ঢ্যাঁড়শের জলে ক্যালোরির মাত্রা নামমাত্র, কিন্তু এটি খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফলে অসময়ে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
কীভাবে তৈরি করবেন ঢ্যাঁড়শের জল?
মাঝারি আকারের ৩-৪টি তাজা ঢ্যাঁড়শ ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার ঢ্যাঁড়শগুলোর দু’দিকের বোঁটা কেটে বাদ দিয়ে মাঝখান থেকে লম্বালম্বিভাবে চিরে বা ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এক গ্লাস পরিষ্কার পানীয় জলে এই টুকরোগুলো সারারাত (কমপক্ষে ৮-১০ ঘণ্টা) ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে ঢ্যাঁড়শের টুকরোগুলো জলের মধ্যেই হালকা চিপে ছাকনি দিয়ে ছেঁকে নিন। তৈরি আপনার স্বাস্থ্যকর ঢ্যাঁড়শের জল। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই জল পান করলে এক সপ্তাহের মধ্যেই শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন। তবে আপনার যদি ক্রনিক কিডনির সমস্যা থাকে (যেহেতু ঢ্যাঁড়শে পটাসিয়াম ও অক্সালেট বেশি থাকে), তবে এই জল খাওয়ার আগে অবশ্যই একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।