জাত তুলে সহকর্মীকে হেনস্থা, তদন্তে কমিশন
এই সময়, পুরুলিয়া: সহকর্মীকে জাত তুলে হেনস্থা ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে পুরুলিয়ার বলরামপুর কলেজের অধ্যক্ষ অনন্যা ঘোষের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে জাতীয় তফসিলি কমিশন। কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের ল্যাবরেটরি কর্মী বিশ্বনাথ রুইদাসের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন প্রশাসন ও সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ তলব করেছে।
কমিশন জানিয়েছে, সংবিধানের ৩৩৮ অনুচ্ছেদের অধীনে এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তার তদন্ত করার অধিকার ডিএসপি পদমর্যাদার কোনও পুলিশ আধিকারিকের। জেলা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, এই ঘটনাতেও তফসিলি জাতি ও উপজাতি আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিশ্বনাথ জানিয়েছেন, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর তাঁকে প্রথম জাত তুলে হেনস্থা করা হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন স্তরে জানিয়েও তিনি কোনও সুবিচার পাননি। উল্টে অবসরের পরে পেনশন আটকে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁর আরও দাবি, নিম্নবর্ণের হওয়ার কারণে অধ্যক্ষ তাঁকে নিজের অফিসঘরেও ঢুকতে দিতেন না। এই দীর্ঘকালীন মানসিক নির্যাতনের জেরে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি আত্মহত্যার কথাও ভেবেছেন।
তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বিশ্বনাথ রুইদাসের বক্তব্য, ‘প্রথমে কলেজের স্টাফ কাউন্সিল থেকে গভর্নিং বডি (জিবি), বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেছিলাম। সুবিচার না-পাওয়ায় ন্যাশনাল এসসি কমিশনের কাছেও অভিযোগ জানাই। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ও দিল্লির কমিশন থেকে ফোনে আমার কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে।’
বর্তমানে কলেজে কোনও গভর্নিং বডি না-থাকায় দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ডেপুটি ডিরেক্টর অফ পাবলিক ইন্সট্রাকশন মৌমিতা মণ্ডল, তবে তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার গুরুদাস মণ্ডল বলেন, ‘বিষয়টি জিবি-কে জানানো হয়েছে এবং কমিশনকেও চিঠি দিয়ে তা জানানো হয়েছে।’ এই ঘটনা সামনে আসতেই সামাজিক ও শিক্ষক সংগঠনগুলি সরব হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী ভূমিজ মুন্ডা কল্যাণ সমিতির রাজ্য সম্পাদক লক্ষ্মীনারায়ণ সিংহ সর্দার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের দাবি অধ্যক্ষের অপসারণ এবং গ্রেপ্তারি।’ একই সুর শোনা গিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল সাঁওতালি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি রবিলাল মান্ডির গলায়। তিনি বলেন, ‘তদন্ত না-হলে আমরা সুবিচারের দাবিতে পথে নামব।’
অন্য দিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ অনন্যা ঘোষ। একে চক্রান্ত দাবি করে তিনি বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেনি তা নিয়ে আমি কী বলব! ভিত্তিহীন অভিযোগ। তদন্ত চলছে। তদন্তেই সত্যি সামনে আসবে।’