শিলিগুড়িতে বড় অভিযান! চক্র ভেঙে পুলিশের হাতে বিপুল ব্রাউন সুগার-কফ সিরাপ
শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গে মাদক কারবারের বিরুদ্ধে (Siliguri)পুলিশের চলতি অভিযানে ফের বড় সাফল্য মিলল। শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার ও কফ…
শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গে মাদক কারবারের বিরুদ্ধে (Siliguri)পুলিশের চলতি অভিযানে ফের বড় সাফল্য মিলল। শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার ও কফ সিরাপ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া মাদক স্থানীয় এলাকায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং গোটা চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর প্রধাননগর থানার একটি বিশেষ দল চম্পাসারির প্রমোদনগর এলাকায় অভিযান চালায়। ওই অভিযানে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ২৩৩ গ্রাম ব্রাউন সুগার এবং একটি বক্স কফ সিরাপ উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
আরও দেখুনঃ দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে রাজগঞ্জে BSF র হাতে বেড়া দেওয়ার জমি
ধৃতদের পরিচয় হিসেবে পুলিশ জানিয়েছে, সমর নগরের বাসিন্দা প্রেম মাহাতো এবং নেতাজি নগরের বাসিন্দা সুজিত সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সমস্ত মাদকদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং তা পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুযায়ী পাঠানো হবে। ঘটনার পরই দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (এনডিপিএস অ্যাক্ট)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য আইনি ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ মাটিগাড়ায় জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান! রাজু বিস্তার তালিকায় থাকা ৩ অভিযুক্ত গ্রেফতার
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া ব্রাউন সুগার এবং কফ সিরাপ স্থানীয় বাজারে সরবরাহের উদ্দেশ্যেই মজুত করা হয়েছিল। তবে এই মাদক কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কীভাবে শিলিগুড়িতে পৌঁছেছিল এবং এর পিছনে বড় কোনও আন্তঃজেলা বা আন্তঃরাজ্য চক্র কাজ করছে কি না, তা এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, ধৃতদের আদালতে পেশ করা হবে এবং প্রয়োজনে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে। হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চক্রের মূল হোতা, সরবরাহকারী এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁদের মোবাইল ফোন, আর্থিক লেনদেন এবং যোগাযোগের সূত্রও খতিয়ে দেখা হবে।
উত্তরবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে মাদক পাচারের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে ব্রাউন সুগার, ইয়াবা, গাঁজা ও নিষিদ্ধ কফ সিরাপ পাচার রুখতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, মাদক পাচারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।