হাসপাতাল নেই, ছয় বছর ধরে কাজ করছেন ৮৭ স্বাস্থ্যকর্মী| eisamay - 24 Ghanta Bangla News
Home

হাসপাতাল নেই, ছয় বছর ধরে কাজ করছেন ৮৭ স্বাস্থ্যকর্মী| eisamay

Spread the love

সরকারি হাসপাতালের এখনও পর্যন্ত কোনও বিল্ডিংই তৈরি হয়নি, এমনকী নির্মাণের জন্য জমিও মেলেনি। অথচ সেই হাসপাতালের জন্য গত ছয় বছর ধরে চিকিৎসক, নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান-সহ মোট ৮৭টি পদে নিয়োগ ও বদলি চলেছে। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে সামনে এসেছে এমনই এক বিস্ময়কর দুর্নীতির ঘটনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।

জানা গিয়েছে, ইন্দোরের খাজরানা এলাকায় ১০০ শয্যার একটি সিভিল হাসপাতাল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় মধ্যপ্রদেশ সরকার। ২০২০ সালের ২৩ জুন প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এই এলাকার প্রায় তিন লক্ষ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করাই ছিল প্রকল্পের উদ্দেশ্য। পাশাপাশি এমওয়াই হাসপাতাল, এমটিএইচ হাসপাতাল এবং জেলা হাসপাতালের উপর রোগীর চাপ কমানোর পরিকল্পনাও ছিল।

হাসপাতাল তৈরির অনুমোদনের পাশাপাশি ৮৭টি সরকারি পদও অনুমোদিত হয়। এর মধ্যে ছিলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মেডিক্যাল অফিসার, স্টাফ নার্স, ফার্মাসিস্ট, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর পদ। কিন্তু ছয় বছর কেটে গেলেও হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জমি না মেলায় নির্মাণকাজ শুরুই করা যায়নি। ফলে হাসপাতালটি আজও শুধু সরকারি নথিতেই রয়েছে।

বিতর্ক আরও বাড়ে যখন প্রকাশ্যে আসে, ২০২৬ সালের ১৫ জুনও ওই অস্তিত্বহীন হাসপাতালের নামে এক ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানের বদলির নির্দেশ জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ হাসপাতাল না থাকলেও সেখানে কর্মী নিয়োগ ও বদলির সরকারি প্রক্রিয়া নিয়মিত চলেছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, কাগজে-কলমে খাজরানা সিভিল হাসপাতালের জন্য অনুমোদিত কর্মীদের ইন্দোরের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে অস্থায়ীভাবে কাজে লাগানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই পি.সি. শেঠি হাসপাতাল, হুকুমচাঁদ হাসপাতাল, সঞ্জীবনী ক্লিনিক এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পরিষেবা দিচ্ছেন। তবে সরকারি রেকর্ডে তাঁদের কর্মস্থল এখনও খাজরানা সিভিল হাসপাতাল হিসেবেই উল্লেখ রয়েছে।

মধ্যপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেন্দ্র শুক্ল জানিয়েছেন, ওই এলাকায় আগে একটি আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টার ছিল। পরে সেটিকে প্রথমে ৫০ শয্যা এবং পরে ১০০ শয্যার সিভিল হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু উপযুক্ত জমির অভাবে নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। জমির ব্যবস্থা হলেই হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে, বিরোধী কংগ্রেস এই ঘটনাকে ‘বড় ধরনের কেলেঙ্কারি’ বলে দাবি করেছে। প্রাক্তন মন্ত্রী সজ্জন সিং ভার্মা প্রশ্ন তুলেছেন, যে হাসপাতালের অস্তিত্বই নেই, সেখানে কী ভাবে বছরের পর বছর ধরে নিয়োগ ও বদলি চলতে পারে। তিনি পুরো ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে বিষয়টি উত্থাপনের কথাও বলেছেন।

প্রশাসনের দাবি, এটি দুর্নীতি নয়, বরং ভবিষ্যতের হাসপাতালের জন্য অনুমোদিত জনবলকে অন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজে লাগানোর একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, হাসপাতাল না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ ও বদলির এই প্রক্রিয়া প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *