রবিনহুডকে ‘আশ্রয় দেওয়া’ ১২০০ বছরের গাছ আজ ‘প্রাণহীন’ | The 1200 year old oak tree that sheltered robin hood has died
একটা লোক ছিল। সঙ্গীদের নিয়ে জঙ্গলে লুকিয়ে থাকত। আর জঙ্গলের পথ দিয়ে যখন জমিদার-বড়লোকেরা লোক-লস্কর নিয়ে যেত, তখন সে দলবল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সব লুঠ করে নিত। পরে সেই সম্পদ বিলিয়ে দিত গরিবদের মধ্যে। গল্পটা পরিচিত, তিনি রবিনহুড (Robin Hood)। শেরউড জঙ্গলের সেই কিংবদন্তির চরিত্র, যার নাম আজ মিথের অংশ হয়ে উঠেছে।
তবে রবিনহুড আদৌ বাস্তবে ছিলেন কি না, তা নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে। এক মত অনুযায়ী, দ্বাদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের অ্যাংলো-স্যাক্সন পর্বে রাজা জন সিংহাসনে বসেন। তাঁকে অত্যাচারী শাসক হিসেবে দেখানো হয়। তাঁর ঘনিষ্ঠ ছিলেন নটিংহ্যামশায়ার কাউন্টির শেরিফ ফিলিপ মার্ক। দু’জনে মিলে সাধারণ মানুষের উপর করের বোঝা চাপিয়ে জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছিলেন।
গল্প অনুযায়ী, এর প্রতিবাদ করেন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান রবিনহুড। পরে রাজরোষে ভিটেছাড়া হয়ে তিনি আশ্রয় নেন জঙ্গলে। সেখানে তৈরি করেন প্রায় ১৪০ জনের একটি দল। যাদের বলা হত ‘মেরি মেন’। বর্তমানে ইংরেজিতে ‘মেরি’ শব্দের অর্থ আনন্দিত বা উৎসবমুখর হলেও, ওল্ড ইংলিশে এর অর্থ ছিল সাহসী ও বিশ্বস্ত। সেই থেকেই রবিনহুডের দলের নাম— মেরি মেন। কিংবদন্তি বলে, এই দল রাজা ও অভিজাতদের অত্যাচারের প্রতিবাদে ধনীদের সম্পদ লুঠ করে গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দিত।
আবার অন্য একটি মতে, চতুর্দশ শতকে ইংল্যান্ডের এক সাধারণ কৃষক ছিলেন রবিনহুড। পরে তিনি কৃষক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। সেই সূত্রেই জঙ্গলকে ঘাঁটি করে শুরু হয় ডাকাতি।
এই কিংবদন্তির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শেরউডের আর এক পরিচিত নাম, মেজর ওক। মধ্যযুগের ব্রিটিশ ব্যালাড বা গীতিকবিতায় উল্লেখ রয়েছে, নটিংহ্যামশায়ারের শেরউড জঙ্গলে ছিল একটি বিশাল ওক গাছ। লোককথা বলে, সেই গাছের ডালেই বসে রবিনহুড তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে পরিকল্পনা করতেন। আবার সেই ডাল থেকেই ছুটে যেত তির, নিচ দিয়ে যাওয়া রাজকীয় কনভয়ের দিকে।
প্রায় ১২০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ঐতিহাসিক ওক গাছ বহু মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র ছিল। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা রোজ সেখানে যেতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সময়ের কাছে হার মানল সেই গাছ। শেরউডের বিখ্যাত মেজর ওক এখন শুধুই মৃত কাঠ, ইতিহাস আর কিংবদন্তির নীরব সাক্ষী।