TMC office: ঋতব্রত তালা লাগিয়ে বেরনোর ৫ মিনিটের মধ্যেই তালা খুলতে পৌঁছলেন কুণাল! মেট্রোপলিটনে ভরসন্ধ্যায় টানটান নাটক | Ritabrata Banerjee Claims TMC Office, Says His Faction Is the ‘Real Trinamool’
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষ Image Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টার কিছু পর। আচমকাই মেট্রোপলিটন তৃণমূলের কার্যালয়ে পৌঁছে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। সঙ্গে ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খানরা। তাঁদের দাবি, তাঁরাই আসল তৃণমূল। সে কারণে প্রতীক-দল-পার্টি অফিসও তাঁদের। তৃণমূল কংগ্রেস ভবন এখন তাঁদেরই বলে দাবি করলেন ঋতব্রত।
মেট্রোপলিটনের এই কার্যালয় থেকে গোটা রাজ্যে দলের সমস্ত কর্মসূচি, দলের কার্যকলাপ নির্ধারিত হয় তৃণমূলের। চার তলা ভবনের দোতলায় গিয়ে দেখা গেল, পাশাপাশি দুটো ব্যানার লাগানো। এক পাশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেওয়া ব্যানার। পাশে আরেক ব্যানার। সেখানে চেয়ারম্যান অরূপ রায়। দোতলায় উঠে কাচের দরজার ঘরে বসেন ঋতব্রতপন্থীরা। তারপর সেখান থেকে বাঁ দিকের ঘরে তাঁরা বৈঠক করেন।
কিন্তু পাশাপাশি দুটো ব্যানার কেন? তাহলে কি ব্যানার লাগিয়ে কার্যালয়ে নিজের অস্তিত্ব জাহিরের চেষ্টা? সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তো আমাদের প্রধান পরামর্শদাতা। ওনারই তো শিক্ষা, মণীষীদের সম্মান জানাতে হবে। আমরা জাতির জনক, সংবিধানের প্রণেতার ছবি লাগিয়েছি।”
তাঁরা যখন সেই ঘরে বৈঠক করছিলেন, তখনই দোতলা থেকে নেমে আসেন ওই বাড়ির মালিক। ঋতব্রত আগেই জানিয়েছিলেন, বাড়ির মালিকের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। তাঁর দাবি, আগে তৃণমূল কংগ্রেস যাঁরা পরিচালনা করতেন, তাঁরা ঠিক ভাবে পরিচালনা করতে পারছিলেন না। বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে এই ভবনে কার্যালয়ের কাজকর্ম তাঁরাই পরিচালনা করবেন বলে ঋতব্রত জানান।
আখরুজ্জামান বললেন, “আমাদেরই অফিস, আমরাই বসেছি। এখানে দলের কার্যকলাপ নির্ধারিত হবে। মালিক আমাদের চাবি দিয়েছেন, আমরা মালিকের সঙ্গেই সরাসরি কথা বলব।”
পৌনে সাতটার কিছু পরে পার্টি অফিসে ঢোকেন ফিরহাদ হাকিম। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “পার্টি অফিসে এসে ভাল লাগছে। আমি তো আগে আসতামই। কিন্তু নির্বাচনের সময়ে অনেকদিন পার্টি অফিস আসা হয়নি।”কিন্তু আজকের দিনে তাঁর পার্টি অফিসে আসা আর আগে পার্টি অফিসে আসার মধ্যে তো বেশ খানিকটা ফারাক? প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান ফিরহাদ। তিনি বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কিচ্ছু বলব না।’
জাভেদ খান বললেন, “আমরা তৃণমূল কংগ্রেস করি। অ্যাডভাইজার হিসাবে, প্রধান মাথা হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই চাই। দিদি আমাদের দিক নির্দেশনা করুন, আমরা থাকব। উনি যদি আমাদের ত্যাগ দিয়ে দেন, তাহলে আলাদা কথা।”
সন্ধ্যা ৭ টা নাগাদ তালা লাগিয়ে ঋতব্রতরা বেরিয়ে যান। বেরিয়ে যাওয়ার আগে সন্দীপন সাহা বললেন, “এটা তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস। বিধানসভায় বিরোধী দল হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।”
সাতটার পর ধীরে ধীরে ঋতব্রতপন্থীরা কার্যালয় ছাড়ছিলেন। গেটে তখন তালা। ঠিক তার পাঁচ মিনিটের মধ্যে মেট্রোপলিটনে পৌঁছয় কালীঘাট তৃণমূল। তালা খুলে দখলমুক্ত করতে পৌঁছলেন কুণাল ঘোষরা।