পুলিশকে টেবিলের তলা থেকে বের করে গুন্ডাদের মাটির তলায় ঢোকানোর বিল: শঙ্কর ঘোষ
বিলের পক্ষে বলতে গিয়ে ২০০৬ সালে বিধানসভা ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। বিধানসভার আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এ দিন শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘যাঁরা আমাদের শৃঙ্খলা শেখাতে এসেছেন, তাঁরা এই বিধানসভা ভাঙচুর করে সরকারি সম্পত্তি কী ভাবে নষ্ট করা যায়, তার প্রমাণ তারা নিজেদের কাজের মধ্যে দিয়েছিলেন।’ তাঁর মতে, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা অপরাধ নয় এমন মানসিকতা সমাজ থেকে মুছে ফেলতে হবে। নয়তো আন্দোলনের নাম করে ট্রেন জ্বালানো, বাস জ্বালানো এবং নৈরাজ্য পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। মন্ত্রী বলেন, ‘করের টাকায় তৈরি সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের মানসিকতা রোখার জন্য এই আইন জরুরি।’
তাঁর আরও সংযোজন, ‘নানা জায়গায় দেখেছি এক শ্রেণির মানুষ সরকারি সম্পত্তি লুট করেছে, ধ্বংস করেছে। তারা ভেবে নিয়েছে তাদের কিছু করা হবে না। এই বিলের বিরোধিতা করা মানে, সেই কাজগুলি করে এসেছেন তারা।’ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার মধ্য দিয়ে পুলিশের হাতে যে আইন রয়েছে, সেই আইন এই সংস্কৃতিকে রোখার জন্য পর্যাপ্ত নয় বলে মন্তব্য মন্ত্রীর। পশ্চিমবঙ্গের আগে অনেক রাজ্যে এই বিল এসেছে, উত্তরবঙ্গে, গুজরাট, কেরালা, রাজস্থানে গুন্ডাদমন করার জন্য এমন বিল রয়েছে বলে বিধানসভায় জানালেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তৃণমূল আমলে এমন একাধিক ঘটনা দেখা গিয়েছে, যেখানে দুষ্কৃতীদের হামলায় পিছু হঠতে দেখা গিয়েছে পুলিশকে। সেই প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘গত শাসকের আমলে পুলিশকে টেবিলের তলায় লুকোতে বাধ্য করেছে, এই বিল পুলিশকে টেবিলের তলা থেকে বের করে গুন্ডাদের মাটির তলায় ঢোকানোর বিল।’ নৌশাদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি জানান, আন্দোলনের অধিকার মৌলিক অধিকার কিন্তু সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করার এই রাজ্যে থাকবে না।