এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ক্লাউডবার্স্টে বিপর্যস্ত অরুণাচল, জলের তোড়ে ভেসে গেল উদ্ধারকারীদের নৌকাও, মৃত ৩ - 24 Ghanta Bangla News
Home

এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ক্লাউডবার্স্টে বিপর্যস্ত অরুণাচল, জলের তোড়ে ভেসে গেল উদ্ধারকারীদের নৌকাও, মৃত ৩

Spread the love

এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে ফের ভয়াবহ ক্লাউডবার্স্ট (মেঘ ভাঙা বৃষ্টি) ও অতি ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অরুণাচল প্রদেশ। লাগাতার বৃষ্টির জেরে রাজ্যের একাধিক এলাকা প্লাবিত। এর সঙ্গে বিপদ বাড়িয়েছে ভূমিধস। যার জেরে একাধিক জেলায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। সোমবার উদ্ধার অভিযানের সময়ে একটি উদ্ধারকারী নৌকা স্রোতে ভেসে যাওয়ায় অন্তত ৯ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে রাজ্যের কেয়ি পাইয়র (Keyi Panyor) জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকাজে গিয়ে ভেসে যাওয়া নৌকায় স্থানীয় প্রশাসনিক প্রতিনিধিও ছিলেন। উদ্ধারকারী দল বন্যাকবলিত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের সরিয়ে আনার কাজ করছিল। সেই সময়ে প্রবল স্রোতের মধ্যে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেসে যায়। তাঁদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।

এর আগেই অরুণাচলের একাধিক এলাকায় টানা বর্ষণ ও মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধস দেখা দেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কেয়ি পাইয়র (Keyi Panyor) জেলা। সেখানে গত কয়েক দিনে একাধিক মানুষ নিখোঁজ হন এবং ধাপে ধাপে মৃতের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। পরে উদ্ধারকারী দল আরও একটি দেহ উদ্ধার করলে সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ৩-এ পৌঁছায়।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অরুণাচল প্রদেশের পূর্ব সিয়াং এবং লেপারাডা জেলা। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ইস্ট সিয়াং জেলাতেই অন্তত ৯টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বহু এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাপক ভূমিধস ও কাদার স্রোতের কারণে পাসিঘাটকে পাঙ্গিন, মারিয়াং-ইংকিয়ং এবং মেবো-দাম্বুক-বোমজিরের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো বর্তমানে বন্ধ। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বড়সড় ক্ষতি হয়েছে পাসিঘাট–রুনে–টাকিলালুগ সংযোগকারী রাস্তায়। পাশাপাশি জাতীয় সড়ক–১৩–এর কয়েকটি অংশে ভূমিধস, পাথর গড়িয়ে পড়া এবং ধসের কারণে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কিছু এলাকায় রাস্তা পুনর্গঠনে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, কয়েকটি জেলায় ২০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে আরও অবনতি হতে পারে পরিস্থিতির। সেই কারণে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা, শুধুমাত্র দিনের আলোয় যাতায়াত করা এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় যানবাহন না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির জেরে প্রশাসন সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের জন্য জরুরি ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করার জন্য ভারতীয় বায়ুসেনা মঙ্গলবার ভোরে হেলিকপ্টার মোতায়েন করবে বলে জানিয়েছে।

এর আগেও গত সপ্তাহে রাজ্যের অন্য অংশে আকস্মিক বন্যা ও প্রবল বৃষ্টির কারণে প্রাণহানি ও বহু মানুষ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। উদ্ধারকাজে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পাশাপাশি সেনা ও বিমানবাহিনীও যুক্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর–পূর্ব ভারতে বর্ষাকালে পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির কারণে ক্লাউডবার্স্টের ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যায়। ফলে আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *