প্রাচীন কাল থেকেই নারীর রূপের যত্ন নিয়ে আসছে এই ৪ ফুল, জানেন কত উপকার?
আজ ত্বকের যত্ন নিতে নানা দামি সিরাম, রেটিনল ক্রিম, ফেসিয়াল বা অন্যান্য অত্যাধুনিক পণ্যের উপর ভরসা করা হয়। তবে প্রাচীন ভারতে রূপচর্চার প্রধান এবং একমাত্র ভরসা ছিল প্রাকৃতিক উপাদান। সেই ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকায় ছিল বিভিন্ন সুগন্ধি ফুলের। আয়ুর্বেদ বলছে এই ফুলগুলো দিয়ে ফেস মাস্ক, তেল ও টনিক তৈরি করা হতো, যা তাঁদের ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখত। রইল এমনই চার ফুলের জাদুকরী গুণের হদিশ…
গোলাপ

রাজকীয় রূপচর্চায় গোলাপের স্থান ছিল সবার উপরে। ভারতের গরম আবহাওয়ায় ত্বককে ঠান্ডা ও শান্ত রাখতে গোলাপ জলকে প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে ব্যবহার করার ছিল সেই প্রাচীন কাল থেকেই। এ ছাড়া স্নানের জলে ও চুলে মাখার তেলেও গোলাপের নির্যাস মেশানো হতো। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান খসখসে ভাব দূর করে ত্বককে হাইড্রেটেড বা আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।
জাফরান

জাফরান মূলত মশলা হলেও এটি আসে ক্রোকাস স্যাটিভাস (Crocus sativus) ফুল থেকে। প্রাচীনকাল থেকেই এর আকাশছোঁয়া দামের কারণে এটি ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। রাজা-রানিরা জাফরান দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ফেস মাস্ক হিসেবে মুখে লাগাতেন। এ ছাড়া চন্দন ও বিশেষ ক্রিমের সঙ্গে এটি মিশিয়ে ব্যবহার করা হতো, যা ত্বকের ভিতর থেকে এক সোনালি আভা বা ঔজ্জ্বল্য ফুটিয়ে তুলত।
পদ্ম

দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতিতে পদ্ম ফুলকে পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও নারীত্বের প্রতীক মনে করা হয়। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে পদ্মের শীতলীকরণ গুণের উল্লেখ রয়েছে। স্নানের জলে পদ্মের পাপড়ি ছড়িয়ে দেওয়ার উল্লেখ পাওয়া যায় ইতিহাসের বিভিন্ন পাতায়। রানিরা তাঁদের রূপের সতেজতা ও লাবণ্য ধরে রাখতে পদ্মের নির্যাস ব্যবহার করতেন।
জুঁই

জুঁই ফুল কেবল সাজসজ্জার জন্য নয়, রাজকীয় রূপচর্চারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল। ফেস ম্যাসাজের তেল, স্নানের জল ও বিভিন্ন ভেষজ মিশ্রণে জুঁই ফুলের নির্যাস ব্যবহার করা হতো। এর চমৎকার সুগন্ধ মানসিক চাপ ও ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে এবং ত্বককে নরম ও কোমল রাখতে কার্যকরী।