এখন কেমন আছেন? প্রশ্ন করতেই রাহুলের মা বললেন… | How is the mother of the late actor Rahul Arunoday Banerjee
‘অনেকদিন পর’ ছবিটির একটি বিশেষ স্ক্রিনিং ছিল শহরে। সেখানে শমীক ভট্টাচার্য, বিমান বসুর মতো বিভিন্ন নামী ব্যক্তিত্বরা যেমন এসেছিলেন, তেমনই এসেছিলেন টলিপাড়ার বর্ষীয়ান অভিনেতারা। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা। এই ছবির পরিচালক সৌরভ পালোধীর সঙ্গে নাটক করছিলেন রাহুল। তারপর ২৯ মার্চ হঠাত্ তাঁর অকালমৃত্যু হয়।
এই খবর আসার পর একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেতার মা। নিজেকে গৃহবন্দি করে ফেলেছিলেন। তবে এখন পরিচিত মানুষদের অনুরোধে তিনি দু’-একটি সিনেমা দেখতে যাচ্ছেন। কিছুদিন আগে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে তিনি একটা সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন। এবার প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায় প্রযোজিত, সৌরভ পরিচালিত ছবিটি দেখতে এলেন তিনি।
এখন কেমন আছেন? আগের থেকে কি ভালো? প্রশ্ন শুনে অভিনেতার মায়ের উত্তর, ”মনখারাপ নিয়েই সব সময়ে থাকি। আর কোনওদিন ভালো থাকতে পারব না। অদ্ভুত একটা ক্ষত শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছি। তা-ও পরিচিতরা আমাকে জোর করছে, যাতে বাড়ি থেকে একটু বের হই। যেমন প্রিয়াঙ্কা আগের দিন বলল, ‘আমার মাকে নিয়ে যাচ্ছি ছবিটা দেখতে, তুমিও চলো, ভালো লাগবে।’ প্রসেনজিত্ আমার খুব খোঁজ নেয়। বাড়ি গিয়ে চিঠি দিয়ে এসেছে ওঁরা। তাই না এসে থাকতে পারলাম না।”
২৯ মার্চ বালাসোরে শুটিং করতে গিয়ে অকালমৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রযোজিত ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্বেতা মিশ্র। শুটিং করতে গিয়ে কীভাবে জলে তলিয়ে মৃত্যু হলো রাহুলের, তার উত্তর খুঁজছেন বাংলার মানুষ। এই ঘটনায় প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধার শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং আরও কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার।
সম্প্রতি দীঘার সাংবাদিক বৈঠকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায় উঠে এলো রাহুল প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ”বিরাট সমুদ্রতটে মাত্র ৬৩ জন নুলিয়া রয়েছে। কিছুদিন আগেই একজন চিত্র-পরিচালকের (রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত্যুর ঘটনার কথা বলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী) মৃত্যু এখানে ঘটেছে। ওড়িশার সরকার সিট (SIT) বানিয়েছে। আমি পূর্ব মেদিনীপুরের এসপি-কে নির্দেশ দিয়েছি, অবিলম্বে প্রশাসনের ডিরেক্টর জেনারেলের মাধ্যমে হোম সেক্রেটারিকে পাঠাতে, এই মামলাটা যাতে সিআইডি নিয়ে নেয়। ওঁর পরিবার থেকে এখানে মামলা করে গিয়েছেন। যেটা একটা ন্যাচারাল ডেথ হিসাবে অপমৃত্যুর মামলা হয়ে রয়েছে। খুব অন্যায়!”
রাহুলের মা জানালেন, তিনি অগস্ট মাসে বড় ছেলে অনির্বাণের কাছে যাবেন। তারপরই যোগ করলেন, ”আমি আবার চলেও আসব। এখানে থাকতে আমার ভালোলাগে। সবাই (রাহুলের পরিচিত এবং বন্ধুরা) অনেক সহযোগিতা করছেন।”