ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ার হস্টেলে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে মন্ত্রীর ভাইপো গ্রেফতার - 24 Ghanta Bangla News
Home

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ার হস্টেলে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে মন্ত্রীর ভাইপো গ্রেফতার

Spread the love

গঞ্জামের কলেজ হস্টেলে এক ছাত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার পরিবহণমন্ত্রীর ভাইপো। মৃত্যুর নেপথ্যে কী কারণ, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কটক: ওড়িশার (Odisha) গঞ্জাম জেলায় এক মহিলা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য পরিবহণমন্ত্রী বিভূতি ভূষণ জেনার ভাইপো বিশ্বজিৎ জেনা (২৪)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার কলেজ হস্টেলের ঘর থেকে ওই পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর শুরু হয় তদন্ত। রবিবার অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্বজিৎকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতা একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রী ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ জেনার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ, অভিযুক্তের আচরণ ও কিছু ঘটনার জেরেই ওই ছাত্রী চরম পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়ে থাকতে পারেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু করা হয়েছে।

কী ঘটেছিল?

ছাত্রীর কাকার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বজিৎ জেনার ভূমিকা ছাত্রীর মৃত্যুর পেছনে থাকতে পারে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এমন কোনও ঘটনা ঘটেছিল কি না যা ওই তরুণীকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ঘটনার সময় ছাত্রীটি কলেজের মেয়েদের হস্টেলে থাকতেন। তাঁর সঙ্গে একই ঘরে ছিলেন আরও তিনজন, যার মধ্যে তাঁর বোনও ছিলেন।

তদন্তে কী জানা যাচ্ছে?

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিজিটাল তথ্য, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, মেসেজ এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃতা ও অভিযুক্তের মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা হস্টেলের ঘর পরীক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বেরহামপুরের পুলিশ সুপার সারাভানা বিবেক এম জানান, ছাত্রীকে হস্টেলের ঘরে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, অভিযুক্তের সঙ্গে একজন মন্ত্রীর পারিবারিক সম্পর্ক থাকলেও তদন্তে কোনও প্রভাব পড়া চলবে না।

বিজেডির গঞ্জাম জেলা সভাপতি ও প্রাক্তন বিধায়ক রমেশ চন্দ্র আইয়াউ পট্টনায়ক বলেন, আইনের চোখে সকলেই সমান। অভিযুক্তকে সাধারণ নাগরিকের মতোই আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

গঞ্জাম জেলা পরিষদের সহ-সভাধ্যক্ষ রাজেশ্বরী ডোরা-ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মৃত ছাত্রীর পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।

এদিকে, গ্রেফতার হওয়া বিশ্বজিৎ জেনা বা মন্ত্রী বিভূতি ভূষণ জেনার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *