পশ্চিমবঙ্গ আবার ভারতসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে?
১৮২৬ সালের মে মাসে হিন্দু কলেজে অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন সতেরো বছরের এক কিশোর। সেই কিশোর হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজ়িয়ো বদলে দিয়েছিলেন হিন্দু কলেজের চেহারা। তৈরি করেছিলেন এমন এক ছাত্রদল, যারা ছিল অকুতোভয় আর প্রশ্ন-উন্মুখ। সারা দেশে বাংলার উচ্চশিক্ষা-ব্যবস্থাকে গভীর সম্ভ্রমের সঙ্গে দেখার সেই ছিল শুরু। সেই সম্ভ্রমের কণামাত্র আজ আর অবশিষ্ট নেই। গত কয়েক বছরে অন্য রাজ্যে শিক্ষা সংক্রান্ত কাজে গেলেই শুনতে হয়েছে বিদ্রুপ আর কটূক্তি। সাম্প্রতিক অতীতে এমন কোনও শিক্ষাবিদ পশ্চিমবঙ্গ উপহার দিতে পারেনি, যাঁকে নিয়ে বাঙালি গর্ব করতে পারে। গত কয়েক বছরে দেশের একশোটি বিশ্ববিদ্যালয় আর কলেজের মধ্যে স্থান পেয়েছে রাজ্যের হাতে-গোনা কয়েকটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে আবার আছে কেন্দ্রীয় সরকারি আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও। সরকার-পোষিত বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলির মাত্র কয়েকটিই উৎকর্ষের বিচারে প্রথম একশোর মধ্যে থেকেছে৷ এবার এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে? যে মে মাসে ডিরোজ়িয়ো যোগ দিয়েছিলেন হিন্দু কলেজে, ঘটনাচক্রে সেই মে মাসেই রাজ্যে গঠিত হয়েছে নতুন সরকার। মাত্র কিছু দিন আগেই উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দায়িত্বে এসেছেন এমন একজন মানুষ, যিনি বলেছেন যে তাঁর লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাটিকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া, যাতে এই রাজ্য শিক্ষাক্ষেত্রে দেশের অধিনায়কত্ব করতে পারে। এই কাজটি যদি সম্পন্ন করতে হয়, তা হলে তাঁকে কিন্তু একাধিক অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
প্রথমেই শিক্ষাঙ্গণ পরিচালনাকে রাজনীতি-মুক্ত করতে হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত কলেজের গভর্নিং বডি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এটি সঠিক পদক্ষেপ। দেখতে হবে যে, নতুন গভর্নিং বডি তৈরি হলে কলেজগুলি পরিচালনার দায়িত্বে আর যেন শাসকদলের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা না থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বায়ত্ত শাসন নিশ্চিত করা জরুরি। বিগত সরকারের আমলে স্রেফ খাতায়-কলমেই এই স্বায়ত্ত শাসন ছিল। উচ্চশিক্ষা তখনই বিকশিত হয়, যখন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে যথাসম্ভব মুক্ত হয়ে অ্যাকাডেমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। উপাচার্য নিয়োগ, শিক্ষক নিয়োগ, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন কিংবা গবেষণা-নীতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আনুগত্যের পরিবর্তে যোগ্যতা ও দক্ষতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষত, পাঠ্যক্রম নির্মাণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ একেবারেই কাঙ্ক্ষিত নয়।
করতে হবে আরও একটি অপ্রিয় কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজ়িকিউটিভ কাউন্সিল, কোর্ট-সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাসম্পন্ন পর্ষদগুলিতে শিক্ষকদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শূন্যস্থানগুলি আগের সরকার পনেরো বছরেও পূর্ণ করেনি। সত্যি কথা বলতে কি, শিক্ষার মেরুদণ্ড যে শিক্ষকরা, বিগত পনেরো বছরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদেরই অংশগ্রহণ ছিল ন্যূনতম। বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা এক বছর করে পর্যায়ক্রমে এই সমস্ত পর্ষদের সদস্য হতেন। তাঁরা জানতেন, এক বছর পরেই তাঁদের জায়গায় নতুন কেউ আসবেন। কাজেই ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তে হাত তোলা ছাড়া তাঁদের আর কিছু করার ছিল না। পুরোনো নিয়মের বদল ঘটিয়ে, বিগত সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজ়িকিউটিভ কাউন্সিলে অস্বাভাবিক ভাবে বাড়ানো হয়েছিল কলেজের অধ্যক্ষদের সংখ্যাও। দুঃখের হলেও সত্যি যে, এঁদের অধিকাংশেরই বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে পঠনপাঠন এবং গবেষণার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা ছিল না। ফল যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। এগজ়িকিউটিভ কাউন্সিলে ছিল না কোনও ছাত্রছাত্রী বা অশিক্ষক কর্মচারীদের প্রতিনিধিও। অথচ তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্টেক-হোল্ডার। প্রতিষ্ঠানের উন্নতি করতে হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রগুলিতে সর্বস্তরের প্রতিনিধিত্ব কিন্তু কাঙ্ক্ষিত।
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর কাঁধে আরও কতকগুলি কঠিন কাজ সম্পন্ন করার দায়িত্ব থাকবে। একটি আদর্শ ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেমন হতে পারে, তার একটি রূপরেখা রবীন্দ্রনাথ দিয়ে গিয়েছিলেন। ১৯১৯ সালে যে বক্তৃতায় তিনি এই রূপরেখাটি নির্মাণ করেছিলেন, সেখানে বলেছিলেন যে শিক্ষা স্রেফ ব্র্যান্ডেড পণ্য হতে পারে না। বলেছিলেন, ‘প্রকৃতির নিয়মে যেমন আগে আসে জল, তার পর সেই জলে আসে মাছ, তেমনি বিদ্বান মানুষদের উপস্থিতির আকর্ষণেই তাঁদের চারপাশে ছাত্র-ছাত্রীরা জড়ো হয়।’ অর্থাৎ, একটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের সবার আগে প্রয়োজন শিক্ষক, শিক্ষক-নিয়োগ সম্পন্ন করে তবেই ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি করা উচিত। অথচ গত কয়েক বছরে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম হতে দেখেছি, যাদের নিজস্ব ভবন নেই, এমনকী একজন পূর্ণ সময়ের শিক্ষকও নেই! এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে অবিলম্বে পূর্ণ সময়ের শিক্ষক নিয়োগ করা প্রয়োজন। রাজ্যের বহু কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরের পর বছর একাধিক স্থায়ী শিক্ষকপদ শূন্য পড়ে রয়েছে। কলেজগুলির ক্ষেত্রে যে সমস্ত ‘স্যাক্ট’ শিক্ষকরা আছেন, তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হয় নেট বা সেট পাস করার বা পিএইচডি সম্পূর্ণ করার নির্দেশও দেওয়া উচিত। কলেজে পড়ানোর ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তাঁরা বছরের পর বছর কলেজে পড়িয়ে যাচ্ছেন। যোগ্য পূর্ণ সময়ের শিক্ষক না থাকলে অ্যাকাডেমিক কাজকর্মের যে বিপুল ক্ষতি হয়, তা কিন্তু অপূরণীয়।
গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যের কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলি উন্নয়ন-খাতে সরকারের সাহায্য যা পেয়েছে, সেটিও উল্লেখযোগ্য নয়। অনেক ক্ষেত্রে লাইব্রেরির জন্য বই কেনার টাকাটুকুও পাওয়া যায়নি। কাজেই উচ্চশিক্ষায় যদি সত্যিই উন্নতি করতে হয়, তা হলে রাজ্য বাজেটে উচ্চশিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতেই হবে। বর্তমানে অধিকাংশ রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পরিকাঠামো দুর্বল। আধুনিক গবেষণাগার, ডিজিটাল লাইব্রেরি, জার্নাল সাবস্ক্রিপশন এবং গবেষণায় অনুদানের অভাবও রয়েছে। নতুন সরকার যদি গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেয়, তা হলে বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক গবেষণা তহবিল গঠন, আন্তঃবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে গবেষণা-সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ তৈরি হতে পারে। গবেষণার মান উন্নত না হলে উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। ইউজিসি থেকেও গবেষণার জন্য যে টাকা পাওয়া যেত, গত কয়েক বছর ধরে সেই খাতে একটি পয়সাও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কলা বিভাগগুলির শিক্ষকদের জন্য নতুন কোনও প্রজেক্টে হাত দেওয়াই হয়ে গেছে কার্যত অসম্ভব। রাজ্য সরকারকে চেষ্টা করতে হবে, গবেষণা-খাতে বাজেট-বরাদ্দ বাড়িয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়ার জন্য একটি পৃথক সেল গঠন করা। আরও একটি বিষয়ের উল্লেখ জরুরি। কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষকরা গবেষণার জন্য ‘স্যাবাটিকাল লিভ’ পেলেও রাজ্যের সরকার-পোষিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এই ছুটি নেই। ভারতের অনেক রাজ্যেই কিন্তু এই ছুটি আছে। কলা বিভাগগুলির গবেষণার মান উন্নত করতে চাইলে শিক্ষকদের এই ছুটি দেওয়া প্রয়োজন।
সামগ্রিক ভাবেও কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। এখনও বহু কলেজে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার, পরীক্ষাগার, ছাত্রাবাস কিংবা ইন্টারনেটের সুবিধের অভাব আছে। ডিজিটাল যুগে উচ্চশিক্ষাকে কার্যকরী করে তুলতে হলে উচ্চ গতির ইন্টারনেট, স্মার্ট ক্লাসরুম, অনলাইন শিক্ষাসামগ্রী ও ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বিশেষত জেলার কলেজগুলিতে এই সুবিধেগুলির প্রসার ঘটানো জরুরি, যাতে ছাত্র-ছাত্রীদের কলকাতা-মুখিনতা কমে। কেন বিভিন্ন জেলায় অন্তত একটি করে কলেজকে সেন্টার অফ এক্সেলেন্স হিসেবে গড়ে তোলা হবে না?
উচ্চশিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে আরও কার্যকর ভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনাও নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু চাকরিপ্রার্থী তৈরি করা নয়, কিন্তু শিক্ষার সঙ্গে সমাজ ও অর্থনীতির সম্পর্কও অস্বীকার করা যায় না। বহু শিক্ষার্থী প্রচুর ডিগ্রি অর্জনের পরও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে না। এই সমস্যা মোকাবিলার জন্য এক দিকে যেমন সরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, স্কুল সার্ভিস কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, কলেজ সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষাগুলি স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়মিত আয়োজন করতে হবে, অন্য দিকে শিল্প-প্রতিষ্ঠান, স্টার্ট-আপ সংস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। নয়া শিক্ষানীতিতে খুবই জোর দেওয়া হয়েছে ইন্টার্নশিপের ওপরে। অথচ এখনও যা অবস্থা, তাতে গ্রামগঞ্জের কলেজগুলি দায়সারা ভাবে ইন্টার্নশিপের কাজ করাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় স্তরে নানা শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কলেজগুলি মউ স্বাক্ষর করতে পারে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
একই ভাবে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আন্তর্জাতিকীকরণের দিকে নজর দিতে হবে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ছাত্র-শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি, যৌথ গবেষণা প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এতে পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা বিশ্ব মানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ ভাবে যুক্ত হতে পারবে। বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের জন্যও বিশেষ উদ্যোগ তৈরি করা যেতে পারে। আইআইটি-র মতো প্রতিষ্ঠানগুলি নিয়মিত বাইরের বিভিন্ন দেশ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের নানা কোর্সের জন্য পেয়ে থাকে। তা হলে সরকার-পোষিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেই বা এই চেষ্টা হবে না কেন? যেমন, ভারতবিদ্যা চর্চার কিছু কোর্স যদি পরিকল্পিত ভাবে রূপায়ণ করা যায়, উন্নত বিশ্বের দেশ থেকেও কিন্তু নিয়মিত কিছু ছাত্র-ছাত্রী পাওয়াই যায়। আইআইটি-র মতো প্রতিষ্ঠানগুলির মতো রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও সামার কোর্স চালু করা খুবই প্রয়োজনীয়। এতে যেমন অর্থাগম হতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতিও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাড়বে।
বিগত পনেরো বছরে যদি কোনও একটি ক্ষেত্রের চরম ক্ষতি হয়ে থাকে, সেটি শিক্ষাক্ষেত্র। নতুন সরকারের সামনে সুযোগ এসেছে উৎকর্ষ এবং জ্ঞানচর্চাকে প্রাধান্য দিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রটির হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করার। এ কথা ঠিক যে, নতুন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর হাতে কোনও জাদুদণ্ড নেই যে, রাতারাতি তিনি সব পাল্টে দেবেন। কিন্তু তিনি প্রথমেই রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রটির অগ্রগমনের অভিমুখটি ঠিক করে দিতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষাকে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে অধিনায়কত্বের জায়গায় স্থাপন করতে হলে, সর্বাগ্রে তাঁকেই উচ্চ শিক্ষাক্ষেত্রটির অধিনায়ক হয়ে উঠতে হবে, যিনি বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখতে জানেন আর নিরপেক্ষ ভাবে প্রয়োজনমতো প্রতিটি খেলোয়াড়ের শ্রেষ্ঠ ক্ষমতাটিকে ব্যবহার করে নিতে পারেন।
লেখক বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির শিক্ষক