ভ্রূণের DNA পরীক্ষা করতেই সামনে এল সৎ বাবার কীর্তি | Stepfather, Mother Get Life Imprisonment in Minor Abuse Case After DNA Evidence in Hooghly - 24 Ghanta Bangla News
Home

ভ্রূণের DNA পরীক্ষা করতেই সামনে এল সৎ বাবার কীর্তি | Stepfather, Mother Get Life Imprisonment in Minor Abuse Case After DNA Evidence in Hooghly

Spread the love

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হল মহিলা ও তাঁর স্বামীরImage Credit: TV9 Bangla

চুঁচুড়া: সৎ বাবার লালসার শিকার নাবালিকা। মায়ের মদতে চলত পাশবিক নির্যাতন। ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ সৎ বাবার কীর্তি। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হল দু’জনের। চুঁচুড়ার পকসো আদালতের বিচারপতি চন্দ্রপ্রভা চক্রবর্তী সোমবার এই সাজা ঘোষণা করেন। আদালত সাজা ঘোষণার পর নাবালিকার সৎ বাবা কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার বয়স যখন বারো বছর, তখন তার বাবাকে ছেড়ে এক প্রৌঢ়ের সঙ্গে সংসার পাতেন নাবালিকার মা। রবীন্দ্রনগরে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তাঁরা। অভিযোগ, সেখানেই সৎ মেয়েকে ভয় দেখিয়ে যৌন নির্যাতন করেন প্রৌঢ়। নাবালিকা তার মাকে এবিষয়ে জানায়। তখন তার মা তাকে চুপ থাকতে বলেন। মারধরও করেন। এরপর থেকে সৎ বাবার লাগাতার যৌন নির্যাতন চলতে থাকে নাবালিকার উপর।কয়েকবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে নাবালিকা। তার গর্ভপাত করায় মা।

২০২০ সালের ২৪ এপ্রিল রাতে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ঘরের বাইরে বেরিয়ে কান্নাকাটি করতে থাকে নাবালিকা। ওই বাড়ির ভাড়াটেরা তার থেকে সব জানতে পারে। নিজের মায়ের মদতে সৎ বাবা পাশবিক নির্যাতন করত সেই কথা চুঁচুড়া মহিলা থানায় গিয়ে জানায়।

এই মামলায় সরকারি আইনজীবী ছিলেন সাবিনা বেগম। পরে হুগলি জেলার মুখ্য সরকারি আইনজীবী শংকর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪/৩২৩/৩৪ ধারা ও পকসো আইনে মামলা রুজু হয়। তদন্তে নির্যাতিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও ডাক্তারি পরীক্ষার পর তদন্তকারী অফিসার ৩৭৬(২)(এফ)(এম) এবং ১০৯ ও পকসো আইনের ৪ ও ৬ ধারা যুক্ত করার জন্য আবেদন জানান।

অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হলে তাঁদের জেল হেফাজত হয়। নির্যাতিতা অভিযোগ দায়ের করার সময় অন্তঃসত্ত্বা থাকায় হাসপাতালে তার গর্ভপাত করানো হয়। অভিযুক্ত প্রৌঢ় অভিযোগ মানতে না চাওয়ায় আদালতের নির্দেশে কলকাতার ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে ভ্রুণের ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ হয় অভিযুক্ত সৎ বাবার কীর্তি।

তদন্তকারী অফিসার তনুকা শিকদার ২০২০ সালের ১৫ জুন অভিযুক্ত দু’জনের বিরুদ্ধেই চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত ১২ জুন বিচারক দুই অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করেন। এদিন তাঁদের সাজা ঘোষণা হয়। দু’জনেরই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছমাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *