FIFA World Cup 2026: জার্সি হাইতির, পতাকা পোল্যান্ডের! বিশ্বমঞ্চে অনন্য বন্ধুত্বের নিদর্শন দেখে চটে লাল ফিফা! | FIFA Demands Action After Haiti’s Shocking Jersey Tribute to Poland Sparks Massive Political Controversy!
– সোমনাথ দাস
কলকাতা : ৪ বছর পরপর হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপ (Football World Cup 2026) বরাবরই নতুন কোনও কাহিনী বলে। কখনও কাউকে হিরো থেকে ভিলেন বানিয়ে দেয়, কখনও কাউকে মাটি থেকে মগডালে পৌঁছে দেয়। তবে এই বিশ্বকাপ অনেকগুলি কারণের মতো আরও একটি বিশেষ কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ, প্রায় ৫২ বছর পর এই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে হাইতি (Haiti)। ১৯৭৪ সালে শেষবারের জন্য বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলেছিল মোহনবাগানের (Mohubagan Supergiant) প্রাক্তন তারকা সোনি নর্ডির দেশ। আগামী রবিবার সকালে স্কটল্যান্ডের (Scotland) বিরুদ্ধে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করছে হাইতি। তবে ম্যাচের আগেই চর্চায় হাইতি দলের জার্সি। পোল্যান্ডের (Poland) পতাকা লাগানো জার্সি পরে বিশ্বকাপে খেলতে চলেছে হাইতি।
বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি রবার্ট লেওয়ানডস্কির পোল্যান্ড। সুইডেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছে পোল্যান্ডের। তবে পোল্যান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে এই বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্সের নামও ।
কেন এই সিদ্ধান্ত হাইতির?
হাইতি যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য তাদের জার্সি প্রকাশ্যে আনল, তখন দেখা গেল নীল জার্সির গায়ে আলাদাভাবে রয়েছে সাদা-লাল পতাকার ডিজাইন। যা পোল্যান্ডের জাতীয় পতাকার রং। আর জার্সিতে রয়েছে হাইতির স্বাধীনতা যুদ্ধের মোটিফ। শুরু হয়ে যায় ইতিহাসের পাতা উল্টোনো। আজ থেকে প্রায় ২২০ বছর আগের ঘটনা। হাইতি তখন নেপোলিয়নের অধীনে। সেখানে শুরু হয়েছে বিদ্রোহ। আর এদিকে ইউরোপে পোল্যান্ডকে তখন তিনভাগ করে নিয়েছে রাশিয়া, প্রুসিয়া আর অস্ট্রিয়া। এই তিন দেশের সঙ্গেই নেপোলিয়নের শত্রুতা। তাই, পোলিশরা ঠিক করে যে তারা নেপোলিয়নের বাহিনীতে যোগ দেবে। বিনিময়ে নেপোলিয়ন যদি তাদের স্বাধীন হতে সাহায্য করেন। নেপোলিয়ন এই পোলিশ বাহিনীকে হাইতির বিদ্রোহ দমনে পাঠিয়ে দেন। পোলিশ সেনারা সেখানে গিয়ে অনুভব করে যে তারা যেমন স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে তেমনই এরাও তো মুক্তির জন্যই বিদ্রোহ করছে। পোলিশ সেনারা ঘুরে গিয়ে হাইতির বিদ্রোহীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ফরাসি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে। ১৮০৪ সালের সেই যুদ্ধে ফ্রান্স হেরে যায়। স্বাধীন হয় হাইতি। তবে পোল্যান্ডকে তারা ভোলেনি। তাই, আজও পোলিশ নাগরিকেরা হাইতিতে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। বিশ্বকাপেও পোল্যান্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হাইতি তাদের জার্সিতে পোলিস পতাকা রেখেছে বলে জানা যায়।
এর মধ্যেই ফিফা আবার হাইতিকে নির্দেশ দেয়, তাদের জার্সি থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের মোটিফ সরাতে হবে। এতে নাকি পলিটিক্যাল মেসেজ যাচ্ছে, যা ফিফার নিয়মবিরুদ্ধ। ফিফার কথা মেনে হাইতি জানায়, জার্সি থেকে তারা যুদ্ধের মোটিফ সরিয়ে দিচ্ছে। আর সাদা-লাল পতাকা পোল্যান্ডের নয়। এটা আসলে হাইতির প্রথম পতাকা। সেখানে খুব হালকা নীল শেড ব্যবহার করা হয়েছে। সেটাই সকলে সাদা বলে মনে করছেন। ফিফার কাছে তো হাইতির চেয়ে ফ্রান্সের গুরুত্ব বেশি। আর পোল্যান্ড এবার বিশ্বকাপে নেই। থাকলেও তাদের চেয়েও ফ্রান্সের গুরুত্ব বেশিই হত। তাই অনিচ্ছাসত্ত্বেও ফিফার নির্দেশ মানতে বাধ্য হাইতি।
বিশ্বকাপে না থাকার ফলে ১৯৭৪ সালের পর থেকেই এই দেশের অধিবাসীরা ব্রাজিলকে সমর্থন করে। তবে এই বিশ্বকাপে একই গ্রুপে থাকার দরুন আগামী শুক্রবার, ১৯ জুন নেইমারের ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে হাইতি। কিন্তু যেখানে গোটা বিশ্বে এত খুন-জখম, এত খারাপ ঘটনা ঘটতে থাকে প্রতিনিয়ত, সেখানে পোল্যান্ডের প্রতি হাইতির এই সহানুভূতি দেখে একটি বাংলা গানের দু’কলি মনে পড়ে যায় – “বন্ধু চল, বলটা দে / রাখব হাত, তোর কাঁধে।” সত্যিই তো, বন্ধুরা তো এমনই হয়।