Nabanna: ‘সন্তানে’র নাম রেখেছিলেন ‘নবান্ন’, নামমিলান্তির ‘অপরাধে’ সরকারি নির্দেশিকায় যে ভয়ঙ্কর মাশুল দিতে হয় সুপ্রিয়কে | From Dream to Distress: How the Name ‘Nabanna’ Brought Financial Trouble for a Durgapur Restaurant Owner
সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়, ব্যবসায়ীImage Credit: TV9 Bangla
দুর্গাপুর: কলেজ পাশের পর থেকেই স্বপ্ন ছিল নিজের ব্যবসা করবেন। আর ভোজনবিলাসী সুপ্রিয়র স্বপ্ন ছিল রেস্তোরাঁ খোলারই। স্বল্প স্বল্প করে টাকা জমিয়েছিলেন, সেই কলেজ জীবন থেকে। তারপর লোন, আরও অনেক সাহায্য। সব মিলিয়ে তৈরি করেছিলেন একটি রেস্তোরাঁ। তাঁর স্বপ্নপূরণ। ঐতিহ্যের নতুন ধানের অন্নের উৎসবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রেস্তোরাঁর নাম রেখেছিলেন ‘নবান্ন’। সালটা তখন ২০০৯! তাতে মাথাতেও আসেনি এই ‘নবান্ন’ নামটাই তাঁর কাছে ঠিক কতটা বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। কিন্তু ২০১১ সালের পর এই নামের কারণেই দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকার বাসিন্দা সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনে নেমে আসে ঘোর বিপর্যয়। প্রচুর টাকার আর্থিক মাশুলও গুনতে হয় তাঁকে।
দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকায় জনপ্রিয় রেস্তোরাঁর নাম ছিল ‘নবান্ন’, সেটা বদলে করতে হয়েছিল ‘পার্বণ’। আর নাম বদলের জন্য সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়কে গুণাগার দিতে হয়েছিল প্রায় পনেরো লক্ষ টাকা। কারণ নবান্ন নাম লেখা সমস্ত দামি প্লেট, বাসন ও কর্মীদের পোশাক সমস্ত কিছুই বদলাতে হয়েছিল। তার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্যের পূর্বতন সরকারের নির্দেশকে দায়ি করছেন সুপ্রিয়।
সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায় বাংলার এই নামটিকে ট্রেডমার্ক করিয়েছিলেন তিনি। ২০০৯ সালের ৪ মার্চ ট্রেডমার্কের অনুমোদন পান তিনি । রাজ্যের প্রশাসনিক সচিবালয়ের নাম ‘নবান্ন’ রাখতে হবে তাই ফরমান আর কেউ ‘নবান্ন’ নাম রাখতে পারবে না। ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই রাজ্যের তরফে দুর্গাপুর পুরসভায় একটি চিঠি পাঠানো হয়। তাতে জানিয়ে দেওয়া হয়, রেস্তোরাঁর নাম ‘নবান্ন’ রাখা যাবে না।
‘নবান্ন’ ও ‘উত্তরকন্যা’ এই দু’টি নাম কোনও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য হন সুপ্রিয় বাবু। তখনই ‘নবান্ন’ নামটি বদল করে সুপ্রিয় রেস্তোরাঁর নাম রাখেন ‘পার্বণ’। এই নামেই ২০১৭–তে নতুন করে যাত্রা শুরু হয় তাঁর রেস্তোরাঁর। রাজ্যে পালাবদলের আগে বিষয়টি নিয়ে হইচই হয়নি । রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আইনি লড়াইয়ে যাননি সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায় । তবে এখন তিনি তাঁর আবেগ ধরে রাখতে পারছেন না। তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে খুশি ছিলেন না প্রকাশ্যেই বলছেন। সুপ্রিয় বলেন, “কীভাবে ঠিক এই ব্যথা বোঝাব, বুঝতে পারছি না। অনেক কষ্ট করেই করেছিলাম। যাঁরা ব্যবসায়ী, তাঁরা বুঝবেন, ব্যবসা কী! নিজের সন্তানের মতো করে লালন পালন করতে হয়। ছোট্ট থেকে বড় করতে হয়, দাঁড় করাতে হয়! করিয়েছিলাম। কিন্তু এক ধাক্কায় ওতগুলো টাকা বেরিয়ে যাওয়া। কী করব, তখন তো আর সরকারের সঙ্গে পাঙ্গা নেওয়া যায় না। “