যন্তর মন্তরে আরশোলা দলের প্রতিবাদে র‍্যাঞ্চো! গায়ে হাত দিলেই অনশনের হুমকি - 24 Ghanta Bangla News
Home

যন্তর মন্তরে আরশোলা দলের প্রতিবাদে র‍্যাঞ্চো! গায়ে হাত দিলেই অনশনের হুমকি

Spread the love

নয়াদিল্লি: যন্তর মন্তরে শনিবার ৬ জুনশিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সংস্কারের দাবিতে চলা ছাত্র-যুব (Sonam Wangchuk)আন্দোলনে যোগ দিলেন লাদাখের খ্যাতনামা পরিবেশবিদ, প্রকৌশলী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ …

নয়াদিল্লি: যন্তর মন্তরে শনিবার ৬ জুনশিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সংস্কারের দাবিতে চলা ছাত্র-যুব (Sonam Wangchuk)আন্দোলনে যোগ দিলেন লাদাখের খ্যাতনামা পরিবেশবিদ, প্রকৌশলী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভে উপস্থিত হয়ে তিনি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের পাশে দাঁড়ান এবং শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-UG, সিবিএসই-র উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক, এবং CUET পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত ছাত্রছাত্রী, গবেষক, যুবক-যুবতী এবং অভিভাবক যন্তর মন্তরে জমায়েত হন। আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল বই, ভারতের জাতীয় পতাকা এবং ককরোচ বা আরশোলার প্রতীকী মুখোশ, যা সংগঠনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আরও দেখুনঃ ভারতীয় টি-টোয়েন্টিতে নতুন যুগ, বিদায় সূর্যকুমারের! নেতৃত্বে শ্রেয়স আইয়ার

মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সোনম ওয়াংচুক বলেন, তাঁর এই আন্দোলনে যোগদান কোনো একক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ নয়। বরং গত চার দশক ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসা, মুখস্থনির্ভর শিক্ষার আধিক্য এবং ছাত্রদের প্রকৃত দক্ষতা বিকাশে ব্যর্থতার বিরুদ্ধে তাঁর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই তিনি এই যুব আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, “শিক্ষা শুধু পরীক্ষার নম্বর নয়, বরং একজন মানুষের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা গড়ে তোলার মাধ্যম। কিন্তু আমরা সেই লক্ষ্য থেকে অনেকটাই সরে গিয়েছি।”

ওয়াংচুক আরও বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম আজ যে প্রশ্ন তুলছে, তা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সহিংসতা নয়, যুক্তি ও সচেতনতার মাধ্যমেই পরিবর্তন আনা সম্ভব।

এদিনের কর্মসূচিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। সোনম ওয়াংচুক জানান, যদি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপককে কোনো কারণে পুলিশ গ্রেফতার করে, তাহলে তিনি নিজে ছয় সপ্তাহব্যাপী অনশনে বসবেন। তাঁর এই ঘোষণার পর আন্দোলনস্থলে উপস্থিত ছাত্র-যুবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। অনেকেই এটিকে আন্দোলনের প্রতি তাঁর নৈতিক সমর্থনের শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে, আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা অভিজিৎ দীপক বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি দেশের কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর আস্থা ফিরিয়ে আনাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, NEET, CBSE এবং CUET-সহ বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য একটি জাতীয় পর্যায়ের আলোচনা শুরু করারও আহ্বান জানান তিনি।

যন্তর মন্তর জুড়ে দিনভর ছিল শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। শিক্ষার্থীরা বই হাতে বসে পাঠচক্র, আলোচনা সভা এবং প্রতীকী প্রতিবাদে অংশ নেন। জাতীয় পতাকা ও ককরোচ প্রতীকী মুখোশ নিয়ে তাঁদের উপস্থিতি আন্দোলনকে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে। দিল্লি পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চলতে থাকে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *