গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে কোমরে দড়ি পরানোর ঘটনায় রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের - 24 Ghanta Bangla News
Home

গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে কোমরে দড়ি পরানোর ঘটনায় রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

Spread the love

গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানোর একাধিক অভিযোগ ঘিরে ফের বিতর্কের মুখে রাজ্য পুলিশ। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে এবার কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট (calcutta …

গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানোর একাধিক অভিযোগ ঘিরে ফের বিতর্কের মুখে রাজ্য পুলিশ। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে এবার কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট (calcutta high court) । একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পর রাজ্যের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। পাশাপাশি চার সপ্তাহের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি চার সপ্তাহ পর হবে বলে জানিয়েছে আদালত।

আদালতের(calcutta high court) পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তের সম্মানহানি করা পুলিশের উদ্দেশ্য হতে পারে না। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রধান দায়িত্ব হলো আইন প্রয়োগ করা, কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘন করা যায় না। অভিযুক্ত হলেও একজন ব্যক্তির মৌলিক মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।(calcutta high court) সম্প্রতি একাধিক ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে, গ্রেপ্তারের পর কিছু অভিযুক্তকে কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে রাস্তায় ঘোরানো হয়েছে। এই দৃশ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সরব হয় বিভিন্ন মহল। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে আদালতে পেশ করাই পুলিশের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু প্রকাশ্যে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর মতো ঘটনা আইন অনুযায়ী গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এই ধরনের আচরণ শুধুমাত্র ব্যক্তির মর্যাদাহানি করে না, বরং বিচার ব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষুণ্ণ করে।(calcutta high court) কলকাতা হাইকোর্ট এই বিষয়ে রাজ্যের কাছে জানতে চেয়েছে, পুলিশের কোন নির্দেশিকা বা নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আদালতের প্রশ্ন, যদি অভিযুক্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই উদ্দেশ্য হয়, তবে প্রকাশ্যে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর প্রয়োজনীয়তা কোথায়? এই ধরনের পদক্ষেপ কি আদৌ আইনসম্মত?

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছে যে, গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে শাস্তি দেওয়ার অধিকার পুলিশের নেই। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক ব্যক্তি নির্দোষ বলেই গণ্য হন। তাই তদন্ত চলাকালীন কোনওভাবেই এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় না যা ব্যক্তির সামাজিক সম্মান নষ্ট করে। মানবাধিকার সংগঠনগুলিও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে। একইসঙ্গে, এটি আইনের শাসনের মূল নীতিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া না এলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশি নিয়ম ও মাঠপর্যায়ের নির্দেশিকা পুনরায় পর্যালোচনা করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে সম্পূর্ণ রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টে পুলিশি আচরণবিধি, গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার নিয়ম এবং অভিযোগগুলির সত্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা থাকতে হবে। আদালত সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

 

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *