মাথা ঘুরছে? হিটস্ট্রোকের লক্ষণ নয় তো?

গরমের সময় তাপমাত্রা প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা কখনও তার বেশি হয়ে যায়। এই সময় হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। সময়মতো এর লক্ষণগুলি না বুঝতে পারলে এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে।

হিট স্ট্রোক এমন একটি অবস্থা, যখন শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়। সাধারণত অতিরিক্ত গরমের কারণে ঘামের মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা থাকে। কিন্তু বাইরের তামপমাত্রা বেড়ে গেলে অনকে সময় শরীর তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

হিট স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণ হলো মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা। দীর্ঘ সময় রোদে থাকার পরে যদি বার বার মাথাব্যথা হয় বা মাথা ঘোরে, তা হলে এটি হিট স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। অনেকেই এটিকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান।

বার বার জল খাওয়ার পরও যদি তৃষ্ণা না মেটে এবং মুখ শুকিয়ে যায়, তা হলে শরীরে ডিহাইড্রেশন হতে পারে। এটিও হিট স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ।

সাধারণ কাজ করতে গিয়েও যদি অত্যধিক ক্লান্তি অনুভূত হয় বা শরীরে শক্তির অভাব দেখা দেয়, তবে তা শরীরের হিট স্ট্রোকের একটা কারণ হতে পারে।

শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ত্বক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি গরম বলে মনে হয়। মুখ লাল হয়ে যায় এবং শরীরে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়।

হিট স্ট্রোকের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রথমদিকে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। তবে গুরুতর হিট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে শরীরে ঘাম হয় না, একটা সময়ের পরে শরীর ঠান্ডা হতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক লক্ষণ।

শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য হৃদযন্ত্রকে বেশি কাজ করতে হয়। ফলে হৃদস্পন্দন হঠাৎ বেড়ে যায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যেতে পারে।

শিশু ও কিশোর-কিশোরী, বয়স্ক ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, রোদে যাঁরা কাজ করেন, ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের সাধারণত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি জ্বর, অসংলগ্ন কথা বলা, হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া-এগুলি হিটস্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে বাইরে বের হওয়া থেকে এড়িয়ে চলুন। পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খান। ডাবের জল, লেবুর শরবত ও অন্যান্য তরল খাবার খান। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে নিয়মিত বিশ্রাম নিন।