‘মন কী বাত’-এ তাপপ্রবাহ থেকে জল সংরক্ষণ নিয়ে সতর্কবার্তা, অ্যাথলিটদের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘মন কী বাত’-এ তাপপ্রবাহ থেকে জল সংরক্ষণ নিয়ে সতর্কবার্তা, অ্যাথলিটদের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

Spread the love

এ দিনের অনুষ্ঠানে গরম মোকাবিলায় ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পানীয়ের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি সতর্ক করে বলেন,‘এই সময় দেশের অধিকাংশ অংশেই তীব্র গরম পড়ছে। প্রবল রোদ ও গরম হাওয়ার মধ্যে নিজেদের যত্ন নেওয়া খুব জরুরি। নিয়মিত জল পান করুন। খুব প্রয়োজন না হলে রোদে বেরোবেন না, আর বেরোতেই হলে সাবধান থাকুন।’

তাঁর কথায়, ‘গরম পড়তেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খাবারের ধরন বদলে যায়। কোথাও মাটির হাঁড়িতে জল রাখা হয়, কোথাও বাড়িতেই দই পাতানো হয়, আবার কোথাও কাঁচা আম সেদ্ধ করে গরম থেকে বাঁচার ব্যবস্থা করা হয়।’

গরমে দেশীয় পানীয় খাওয়ারও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তাঁর মুখে উত্তর ভারতের আমপানা, পাঞ্জাব-হরিয়ানা এলাকার লস্যি, রাজস্থান-গুজরাটের ছাঁস, বিহার-ঝাড়খণ্ডের ছাতুর শরবত, কোক্কণ ও গোয়ার কোকুমের বিখ্যাত শরবত এবং দক্ষিণ ভারতের পানাকাম ও সাম্বারমের উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, এই সব পানীয় শুধু শরীর ঠান্ডা রাখে না,‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও তুলে ধরে।

প্রধানমন্ত্রী এদিনের অনুষ্ঠানে গরমের ফল আমের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, গরম পড়লেই দেশের প্রতিটি বাড়িতে আম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। মহারাষ্ট্রের হাপুস (আলফানসো), গুজরাতের কেশর, উত্তরপ্রদেশের দশেহরি এবং বারাণসীর ল্যাংড়া আমের নাম উল্লেখ করে তিনি ভারতের আঞ্চলিক বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরেন।

এর আগে গত সপ্তাহেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাপপ্রবাহ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে লিখেছিলেন,

‘নিজেদের হাইড্রেটেড রাখুন, বাইরে বেরোলে জল সঙ্গে রাখুন। সম্ভব হলে বাড়িতে জিনিস দিতে আসা তৃষ্ণার্ত মানুষকে এক গ্লাস জল দিন।’ পাশাপাশি পশু-পাখিদের জন্য বাড়ির বাইরে জল রাখারও আবেদন জানান তিনি।

জল সংরক্ষণে জনঅংশগ্রহণের ডাক

এ দিনের পর্বে জল সংরক্ষণকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, বর্ষা আসার আগে জল বাঁচানোর প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ নিজের উদ্যোগে পুকুর পরিষ্কার, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং জলাশয় পুনরুজ্জীবনের কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই ধরনের উদ্যোগকে ‘জন আন্দোলন’-এ পরিণত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ‘মন কী বাত’-এর এই পর্বে গরমের পাশাপাশি সমাজসেবা এবং খেলাধুলায় ভারতের সাফল্যের বিষয়ও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

অ্যাথলেটদের সাফল্যে উচ্ছ্বাস

ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে আয়োজিত ন্যাশনাল সিনিয়র অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন প্রতিযোগিতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রতিযোগিতায় একাধিক জাতীয় রেকর্ড ভেঙেছে ভারতীয় অ্যাথলেটরা। গুরিন্দরবীর সিং, বিশাল টি কে, তেজস্বীন শঙ্কর, দেব মীনা এবং কুলদীপ কুমারের সাফল্যের প্রশংসা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে ন্যাশনাল সিনিয়র অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন প্রতিযোগিতা হয়। এই প্রতিযোগিতায় চারটি ভিন্ন ইভেন্টে চারটি নতুন জাতীয় রেকর্ডতৈরি হয়েছে। গুরিন্দরবীর সিং, বিশাল টি কে, তেজস্বীন শঙ্কর, দেব মীনা এবং কুলদীপ কুমার, বিভিন্ন বিভাগে পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। আমি তাঁদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’

বিশেষভাবে ১০০ মিটার দৌড়ের জাতীয় রেকর্ড নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, মাত্র দু’দিনে তিনবার জাতীয় রেকর্ড ভেঙে নতুন করে তৈরি হয়েছে এবং এই কৃতিত্বের পিছনে রয়েছেন গুরিন্দরবীর সিং ও অনিমেষ কুজুর। অনুষ্ঠানে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *