দরজায় কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপ, তবু ভারতে সম্প্রচার নিয়ে কেন এত ধোঁয়াশা?
আরও একটি বড় কারণ খেলার সময়। ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৪টি ম্যাচ ভারতের সময় অনুযায়ী মধ্যরাতের আগে শুরু হবে। ফাইনালও শুরু হবে রাত সাড়ে ১২টায়। সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলির মতে, গভীর রাতে ম্যাচ হওয়ায় বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যায়। তাই তারা বড় অঙ্কের টাকা খরচ করতে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞ রাজেশ শেঠির (Rajesh Sethi) মতে, এটি কোনও আলোচনার ব্যর্থতা নয়, বরং পুরোপুরি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত। তাঁর দাবি, ‘ভারতের জনসংখ্যা যত বড়ই হোক, বিজ্ঞাপনদাতারা মানুষ গোনেন না, দর্শক গোনেন।’
তবু ভারতকে উপেক্ষা করা কি সম্ভব?
যদিও সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলির যুক্তি রয়েছে, অনেকের মতে ভারতকে উপেক্ষা করার সুযোগ ফিফার নেই। ক্রীড়া আইন বিশেষজ্ঞ অহনা মেহরোত্রার (Aahna Mehrotra) মতে, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং অন্যতম বৃহৎ মোবাইল বাজারকে গুরুত্ব না দিয়ে কোনও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে না।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে (Qatar World Cup) ফিফার মোট দর্শকের প্রায় ২.৯ শতাংশ এসেছিল ভারত থেকে। ১১ কোটিরও বেশি মানুষ ডিজিটাল মাধ্যমে সেই প্রতিযোগিতা অনুসরণ করেছিলেন। প্রিমিয়ার লিগ (Premier League), লা লিগার (La Liga) মতো ইউরোপের বড় প্রতিযোগিতাগুলিও এখন ভারতীয় বাজারকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। অহনার মতে, ‘ভারতে সম্প্রচারকারীদের আগ্রহ কমে যাওয়া ফিফার জন্যও চিন্তার বিষয় হতে পারে। কারণ এতে ভবিষ্যতে ফুটবলের প্রসারের পরিকল্পনা ধাক্কা খেতে পারে।’