টাকা ফেরানো হবে, মাইকে প্রচার চালাচ্ছেন গ্রামবাসী
এই সময়, কোচবিহার: কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়া হবে। নিজ দায়িত্বে কাটমানির টাকা ফেরত নিয়ে যাবেন।
সারা পাড়া চমকে উঠল এই ঘোষণায়। একটা টোটো। তার মাথায় বাঁধা মাইক। তার শব্দ ছড়িয়ে পড়তে কৌতূহলী গ্রামবাসী ভিড় জমালেন। কোচবিহারের ঘুঘুমারিতে।
ক্ষমতা থেকে তৃণমূল বিদায় নেওয়ার পরে প্যান্ডোরার বাক্স খুলে গিয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে জেলায় জেলায় গ্রেপ্তার হচ্ছেন সাবেক শাসকদলের নেতারা। পুলিশের তৎপরতা দেখে ভয় ভেঙে এগিয়ে আসছেন সাধারণ মানুষও। তাঁরা চড়াও হচ্ছেন তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে। আবার কোথাও কাটমানির টাকা ফেরানোর কথা জানিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে টোটো। উদ্যোগ নিচ্ছেন স্থানীয় মানুষজন। যদিও এসবের পিছনে বিজেপির চক্রান্ত দেখছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা।
কোচবিহার–১ ব্লকের ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭৩ নম্বর বুথের ঘটনা নজর কেড়েছে। এই এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য জ্যোৎস্না বর্মনের বাড়িতে বুধবার গ্রামবাসী চড়াও হয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি ঘর দেওয়ার নাম করে এই পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর সহযোগীরা উপভোক্তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। পরে বিক্ষোভকারীরা আর এক পঞ্চায়েত সদস্য সুবল করের বাড়িতে যান। সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি। এর পরে বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, ৪ জুন পঞ্চায়েত সদস্যরা কাটমানির টাকা ফেরত দেবেন বলে জানিয়েছেন। এ কথা এলাকার সব মানুষের কানে তুলতে গ্রামবাসীই প্রচার করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাই গ্রামে গ্রামে সে কথা মাইকে প্রচার করা হচ্ছে।
গত কয়েকদিন কোচবিহারে জনরোষের ঘটনা সামনে আসছে। বিভিন্ন গ্রামে পঞ্চায়েত সদস্যদের বাড়ির সামনে ধর্না দিচ্ছেন গ্রামবাসী। তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতিকে মারধর করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কোথাও পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী গ্রেপ্তার হয়েছেন। জনরোষের ভয়ে কোনও কোনও জনপ্রতিনিধি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আবাস যোজনা ঘিরে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভোটের আগে যে সব উপভোক্তা সরকারি ঘর পেয়েছেন, তাঁদের টাকা দিতে হয়েছে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন নেতৃত্বকে। কোথাও পাঁচ হাজার, কোথাও ১০ হাজার, কোথাও আবার ২০ হাজার টাকা কাটমানি দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ। এই কাটমানি ফেরানোর দাবি তোলা শুধু নয়, টাকা ফেরানোর কথা ঘোষণা করে অভিনব প্রচারে নেমেছেন গ্রামবাসী।
এই প্রচারে রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে ঘুঘুমারিতে। যদিও এমন কোনও ঘোষণার কথা স্বীকার করেননি জ্যোৎস্না বর্মনের ঘনিষ্ঠরা। তাঁর এক আত্মীয় বলেন, ‘এটা বিজেপিরই চক্রান্ত। গ্রামবাসী মাইকে প্রচার চালাননি। নির্দিষ্ট দিনে টাকা ফেরতের কথাও কাউকে বলা হয়নি। পুরো অভিযোগই ভিত্তিহীন।’ অভিযুক্ত আর এক পঞ্চায়েত সদস্য সুবল করের বক্তব্য, ‘আমার বাড়িতে কেউ টাকা চাইতে আসেনি। তা ছাড়া আমি বাড়িতেও নেই। চিকিৎসার জন্য এলাকার বাইরে আছি।’
জ্যোৎস্না ও সুবলের বক্তব্য মানতে নারাজ বিজেপি নেতা তথা জেলা কমিটির সদস্য অনন্তকুমার দে সরকার। তিনি বলেন, ‘এই দুই পঞ্চায়েত সদস্যই কাটমানির টাকা ফেরত দেবেন বলেছেন। তার পরেই গ্রামবাসী মাইকে বিষয়টি প্রচার করেছেন। লক্ষ লক্ষ টাকা এঁরা আত্মসাৎ করেছেন। মানুষকে সেই টাকা ফেরাতে হবে।’